স্ত্রীকে খুনের পর দেহ ১৭ টুকরো করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ফেলে এল স্বামী। এমনই নারকীয় ঘটনা ঘটল মহারাষ্ট্রের ভিওয়ানি-তে। অভিযুক্ত স্বামীকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সূত্রে খবর, তার নাম পারভিন ওরফে মুসকান। বয়স ২২ বছর। ভিওয়ান্ডির ইদগাহ রোড বস্তি ও কসাইখানা এলাকার কাছে একটি খাল থেকে নিহত পারভিনের কাটা মাথা পাওয়া যায়। মুসকানের মা সেটি শনাক্ত করেন। খুনের দায়ে ইতিমধ্যেই মুসকানের স্বামী, ২৫ বছর বয়সী মহাম্মদ তাহা আনসারি ওরফে সোনুকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। জেরায় নিজের অপরাধ কবুল করেছে ধৃত সোনু। জানায়, স্ত্রী মুসকানকে গলা কেটে হত্যা করেছে সে। তারপর লাশ টুকরো টুকরো করে। আর কাটা মুণ্ডু খালে ফেলে দেয়। আর বাকি দেহাংশ শহরের নানা জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে। কিন্তু কেন এই নৃশংস খুন? কী কারণে স্ত্রী মুসকানকে খুন করে সোনু? তা এখনও পুলিসের কাছে সুস্পষ্ট নয়। ২ বছর আগে পেশায় গাড়িচালক মহাম্মদ তাহা আনসারি ওরফে সোনুর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল মুসকানের। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী সোনু ও শ্বশুরবাড়ির অন্য লোকেদের সঙ্গে প্রায়শই অশান্তি হত মুসকানের। পরে ইদগাহ খালের কাছে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানেই ১ বছরের ছেলেকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন মুসকান। কিন্তু হঠাৎ ৪ দিন ধরে সেই বাড়ি তালাবন্ধ দেখে সন্দেহ হয় প্রতেবেশীদের। আচমকা মেয়ের কোনও খোঁজ না পেয়ে সন্দেহ হয় মুসকানের মা হানিফা খানেরও। তখন হানিফা বিবি পুলিসের কাছে মিসিং ডায়েরি করেন। এরপরই তদন্তে নামে পুলিস। উদ্ধার হয় একটা কাটা মাথা। ছবি দেখে যে মাথা নিজের মেয়ের বলে শনাক্ত করেন হানিফা বিবি। তারপরই সন্দেহের তীর গিয়ে পড়ে স্বামী সোনুর উপর। সোনুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করে পুলিস। নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর্দা ফাঁস হয়। গোটা ঘটনাটি প্রকাশ পায়। যদিও ধড় এখনও উদ্ধার হয়নি। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও খুঁজছে পুলিস।

