নতুন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে নেপালের সংসদ ভেঙে দিলেন প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল ৷ শুক্রবার রাত ১১টা থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে ৷ আগামী বছর ২১ মার্চ নির্বাচন হবে বলেও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ৷ তারপর স্থায়ী সরকার পাবে নেপাল ৷ ততদিন সরকার চালাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৷ সংসদ ভেঙে দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে গঠিত হয় নেপালের অন্তর্বর্তী সরকার ৷ রাত ন’টা নাগাদ রাষ্ট্রপতির সামনে দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ চালানোর দায়িত্ব নেন সুশীলা ৷ সোশাল মিডিয়া বন্ধ করা থেকে শুরু করে দুর্নীতি-সহ একাধিক কারণে যুবসমাজের সরকার-বিরোধী আন্দোলনের জেরে গত 8-9 সেপ্টেম্বর নেপাল রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল ৷ তাতে ক্ষমতাচ্যুত হয় কেপি শর্মা ওলির সরকার ৷ তারপর থেকে জারি ছিল সামরিক শাসন ৷ শেষমেশ তৈরি হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৷ বিক্ষুব্ধরা (অধূুনা প্রাক্তন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জ্বালিয়ে দেয় ৷ প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী-সহ একাধিক মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা চালায় ৷ চাপের মুখে বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেন কেপি শর্মা ওলি ৷ সেদিন রাতে দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় নেপালের সেনাবাহিনী ৷ নেপালের মসনদে কে বসবেন ? সে নিয়ে বিস্তর আলোচনা হতে থাকে শহরের ভদ্রকালী এলাকায় অবস্থিত সেনার প্রধান কার্যালয়ে ৷ এই দৌড়ে প্রথম থেকেই এগিয়ে ছিলেন সুশীলা ৷ গত দু’দিনেে আরও কয়েকজনের নাম নিয়েও চর্চা হয় ৷ তবে একাধিক রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের একাংশের সমর্থন সঙ্গে থাকায় বাকিদের পিছনে ফেলে দেশের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন নেপাল সুপ্রিম কোর্টের এই প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ৷ নেপালের সংবিধানের ৮০ নম্বর ধারা অনুযায়ী দায়িত্ব নেন সুশীলা ৷ তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রেসিডেন্ট ৷ পরে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি আশা করি দেশকে এই সঙ্কটের পরিস্থিতি থেকে আপনি বের করে নিয়ে আসতে পারবেন ৷” আন্দোলনকারীদের সমর্থন যে সুশীলার সঙ্গে প্রবলভাবে আছে তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে রাতেই ৷ সুশীলাকে জানানো অভিনন্দন বার্তায় ভরে গিয়েছে সোশাল মিডিয়া ৷ অনেকেই আশা করছেন, নানা ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া সঙ্কট থেকে নেপালকে বের করে আনতে সক্ষম হবেন সুশীলা ৷