ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, শুধু খামেনেই নয়, যৌথ বাহিনীর হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। খুব শিগগির অপারেশন ‘সিংহগর্জন’ সমাপ্ত হবে। এর পর কি ক্ষমতায় আসবেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পহলভি? ফক্স নিউজ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেমনটাই দাবি করেছেন তিনি। ঠিক কী বলেছেন? রেজা জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা খামেনইর মৃত্যুর পরেই একটি নতুন সরকারে গঠনের প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। আর সেই কাজে নতুন ইরানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। রেজার বক্তব্য, “লক্ষ লক্ষ ইরানি জনগণ” এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের একাংশ খামেনেই বিরোধী আন্দোলনের পক্ষে ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই একটি রূপান্তরের পরিকল্পনা কার্যকর ছিল। তিনি যোগ করেন, নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। যাতে করে ইরানিরা তাঁদের সুন্দর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা বেছে নিতে পারেন। নতুন ইরানের প্রথম ১০০ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খামেনেই জমানার অবসান ঘটাতে আমেরিকা ও ইজরায়েল চূড়ান্ত অভিযান শুরু করতেই  বিদেশ থেকে স্বাগত জানান ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ। ইরানি সেনার প্রতি তাঁর বার্তা ছিল, মৌলবাদী শাসকদের নয়, সাধারণ মানুষকে রক্ষা করুন। অন্তরাল থেকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেছেন, “আপনারা (সেনা) ইরান এবং ইরানি জনগণকে রক্ষা করার শপথ নিয়েছিলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র এবং তার নেতাদের সুরক্ষা দেওয়া আপনাদের কাজ নয়।” রেজার ভাষায় খামেনেইকে ক্ষমতাচ্যূত করতে ইরান-ইজরায়েলের যৌথ হামলা ঐতিহাসিক এবং ‘মানবিক হস্তক্ষেপ’।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ৯টি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। একইসঙ্গে তেহরানের নৌ-সদরদপ্তরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ (Truth Social) ট্রাম্প লিখেছেন, “আমাকে জানানো হয়েছে যে আমরা ইরানের ৯টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছি, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি বেশ বড় এবং রণকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাকিগুলোকেও আমরা ধাওয়া করছি—খুব শীঘ্রই ওগুলোও সমুদ্রের তলদেশে ভাসবে!” এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই অভিযানের অবিশ্বাস্য সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ইরানের অন্তত ৪৮ জন শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না যে আমরা কতটা সফল হচ্ছি। এক আঘাতেই ৪৮ জন নেতা শেষ! সবকিছু খুব দ্রুত এগোচ্ছে।”গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থার শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতাকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়া। ইরান ইতিমধ্যেই তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই অভিযান কেবল আমেরিকার জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু সময়ের আগেই এগোচ্ছে।