দোলের আনন্দ মুহুর্তে বদলে গেল বিষাদে! গঙ্গায় স্নান করতে নেমে স্রোতের টানে তলিয়ে গেলেন যুবতী সহ চার জন। এর মধ্যে সদ্য বিবাহিত এক যুবক এবং তাঁর ভাইও রয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ার বলরাম সরকার ঘাটে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গঙ্গায় তলিয়ে যাওয়া চার জনের কারও হদিস মেলেনি। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। ডুবুরি নামিয়েও বিশেষ কোনও লাভ না-হওয়ায় নিখোঁজ চার জনের বেঁচে থাকার আশা এখন প্রায় ক্ষীণ! অনুমান করা হচ্ছে তলিয়ে যাওয়া তিন যুবক ও এক যুবতী আর বেঁচে নেই। তবু,হাল ছাড়তে নারাজ পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। তাঁরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই মুহুর্তে বলরাম সরকার ঘাটে চলছে নিখোঁজ চার জনের হদিস পেতে জোরকদমে তল্লাশি। ঘাটের কাছে ভিড় করে রয়েছেন তাঁদের পরিবার এবং আত্মীয়রা। তবে,আশ্চর্য কিছু না-ঘটলে নিখোঁজ চার জনের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া প্রায় অসম্ভব বলেই মনে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। এ নিয়ে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর আধিকারিক কুলদীপ সিং বলেন, “গঙ্গায় স্রোত বেশি থাকায় চার জনের দেহ যদি কোথায়ও আটকে না থাকে,তা হলে ব্যারাকপুরের দিকে তাঁদের ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে ভাটপাড়া ঘাট থেকে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।” পুলিশ প্রশাসনের তরফে আশপাশের ঘাটগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ চার জনের নাম সৈকত নন্দী (৩০) ও তাঁর ভাই সৌরভ নন্দী (২৭), সৌরভ সরকার (১৯) এবং দীপশিখা দাস রজক (২০)। সৈকত ও সৌরভ ভাটপাড়া পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাদরাল গভর্নমেন্ট কলোনির বাসিন্দা। একই এলাকায় বাড়ি আরেক সৌরভের। অন্যদিকে, দীপশিখার বাড়ি কলকাতায়। রং খেলার পর দোলের দিন বিকেলে দুই ভাই সৈকত ও সৌরভ স্নান করতে নামেন গঙ্গায়। সঙ্গে ছিলেন তাঁদেরই পরিচিত আত্মীয় দীপশিখা। স্নান করতে নেমে আচমকা স্রোতের টানে তলিয়ে যান তিন জনই। গঙ্গায় তাঁদের হাবুডুবু খেতে দেখে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন ঊনিশ বছরের যুবক সৌরভ। এই দৃশ্য সঙ্গে সঙ্গে গঙ্গায় ঝাঁপ দেন তিনি। কিন্তু, তিনিও জলের প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান নিমেষে। এর পরেই খবর যায় স্থানীয় থানায়। খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশ। নামানো হয় ডুবুরিও। রাতভর তল্লাশি চালিয়েও নিখোঁজ চার জনের কোনও খোঁজ মেলেনি। বুধবারও দিনভর তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। তার পরেও বিশেষ কোনও সুবিধে হয়নি। এদিকে, ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় কেটে যাওয়ার পরেও নিখোঁজ চার জনের কোনও হদিস না-মেলায় একরাশ উদ্বেগ নিয়েই দিন কাটছে পরিবারেরলোকেদের। এ নিয়ে নিখোঁজ সৌরভের মা সোমা সরকার বলেন, “বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ঘাটে বসেছিল। তখনই তিনজনকে জলে তলিয়ে যেতে দেখে বাঁচাতে ঝাঁপ দেয় ছেলে। তারপর থেকে আর কোনও খোঁজ মেলেনি।

