এসআইআর নিয়ে আরও একটি মামলা দায়ের হল সুপ্রিম কোর্টে ৷ বাংলায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকাদের নাম গিয়েছে এমন কয়েকজন সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেন ৷ তাঁদের আবেদন শুনতে রাজি হয়েছে আদালত ৷ আগামিকাল, মঙ্গলবার এসআইআর নিয়ে দায়ের হওয়া মূল মামলার শুনানি হবে ৷ তার সঙ্গেই নাম বাদ যাওয়া সংক্রান্ত আবেদনেরও শুনানি হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে ৷ সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রবীণ আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী ৷ তিনি জানান, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে তাঁদের অনেকই আগে ভোট দিয়েছেন ৷ কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখন তাঁদের জমা দেওয়ার নথিকে মান্যতা দিচ্ছে না ৷ আর তাই তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৷ এরপর বেঞ্চের তরফে জানানো হয়, এখন পরিস্থিতি যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে সেখানে তাঁদের পক্ষে বিচার বিভাগীয় কর্তারা ভোটার তালিকা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন তার অপেক্ষায় বসার কথা উপায় নেই ৷ এরপর আবেদনকারীদের তরফে সদ্য তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভা নির্বাচনে মনোনয়ন পেশ করা আইনজীবী জানান, এত মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে অবশ্যই শুনানি হওয়া উচিত ৷ এ প্রসঙ্গে তিনি বেশ কয়েকটি তথ্যও বেঞ্চের সামনে তুলে ধরেন ৷ তাঁর বক্তব্য শোনার পর মামলা শুনতে সম্মত হয় বেঞ্চ ৷ এর আগে এসআইআর নিয়ে 24 ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয় ৷ সেদিন লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা তথ্য়গত অসঙ্গতি সংক্রান্ত কাজ করার জন্য এবার ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে বিচারকদের কাজে লাগাতে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের । তার দিন দুয়েক আগে এসআইআর সংক্রান্ত পরিস্থিতি বিস্তারিত জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল চিঠি লিখেছিলেন সুপ্রিম কোর্টে ৷ সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন প্রায় 80 লক্ষ নথি খতিয়ে দেখার কাজ এখনও বাকি । এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের 294 জন কর্মরত ও প্রাক্তন বিচারকদের নিয়োগ করা হয়েছে ৷ তাঁরা প্রতিদিন 250 জনের নথি যাচাই করলেও 80 দিন লেগে যাবে এই কাজ সম্পন্ন করতে । এদিকে আজ, মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানি করা হয় ৷ এমনই নানা ঘটনার আবহে 28 ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয় ৷ তাতে দেখা গিয়েছে, মোট 63 লক্ষের কাছাকাছি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৷ এর পাশাপাশি 60 লক্ষ ভোটারের নাম রয়েছে বিচারাধীন তালিকায় ৷ এখান থেকেই নতুন সমস্যার শুরু ৷ একাধিক রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সামাজিক সংগঠনের দাবি এই বিচারাধীন ভোটারদের ব্য়াপারে চূডান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে ভোটের দিন ঘোষণা করা যাবে না ৷ এরই মধ্য়ে রবিবার রাতে কলকাতায় আসে কমিশনের ফুলবেঞ্চ ৷ তাদের কাছে এই দাবি পৌঁছে দিয়েছে বামেরা ৷ এরপর মঙ্গলবার এসআইআর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হতে চলেছে শীর্ষ আদলতে ৷ বিচারাধীন ভোটারদের নিয়ে আদালত কোনও নির্দেশ দেয় কি না, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে ৷ পাশাপাশি চূড়ান্ত তালিকা থেকে ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে আদালত কোনও নির্দেশ দেয় কি না, সেটাও তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে ৷