তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে শাহের চার্জশিটের পাল্টা ‘মোটা ভাই, জবাব চাই’ চার্জশিট প্রকাশ করল তৃণমূল ৷ শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের চার্জশিট প্রকাশের ঘণ্টাখানেক পরই তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি’র বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রকাশ করেন লোকসভার দুই সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদ এবং রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ৷ পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা থেকে শুরু করে মণিপুরের অশান্তি- একাধিক ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল ৷ ভোটমুখী পশ্চিমঙ্গে মেরুকরণের রাজনীতি করছে বিজেপি, তোপ দাগেন দুই সাংসদ এবং মন্ত্রী ৷ কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, “আমরা অমিত শাহের একশোটা ব্যর্থতা তুলে ধরতে পারি ৷” কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ব্যর্থতা নিয়ে মহুয়া কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সাধারণ পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন ৷ তিনি বলেন, “আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সামলান ৷ আপনার হাতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ৷ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে 26 জনকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ৷ তখন কোথায় ছিল আপনার নিরাপত্তা বাহিনী ? এই ঘটনার দু’সপ্তাহ আগে ঝাড়খণ্ডের বিজেপির সাংসদ কাশ্মীরের একটি হোটেলে বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করছিলেন ৷ তখন সেখানে জনগণের করের টাকায় প্রত্যেক অতিথি পিছু 100 জন নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগ করা হয়েছিল ৷ আর দু’সপ্তাহ পরেই পহেলগাঁওয়ে নিরপরাধ পর্যটকদের হত্যা করা হল ৷ তাঁদের কী নিরাপত্তা ছিল, শূন্য ৷” উঠে আসে মণিপুরের অশান্তির ঘটনাও ৷ মহুয়া বলেন, “তিন বছর ধরে মণিপুর জ্বলছে ৷ আমরা এনিয়ে সংসদে দীর্ঘ বক্তৃতা করেছি ৷ মহিলাদের ধর্ষণ করা হয়েছে ৷ তাঁদের বিবস্ত্র করে হাঁটানো হয়েছে ৷ দুই জনজাতির মধ্যে সংঘর্ষে গণহত্যা হয়েছে ৷ রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে ৷ ফের মণিপুর মুখ্যমন্ত্রী পেয়েছে ৷ কিন্তু মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য কী করেছেন ?” 2023 সালের 13 ডিসেম্বর লোকসভায় অধিবেশন চলাকালীন দর্শকদের গ্যালারি থেকে হঠাৎ কক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন কয়েকজন তরুণ ৷ এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে মহুয়া প্রশ্ন করেন, “ওই দু’জনকে সংসদে প্রবেশের পাস দিয়েছিল বিজেপিরই এক সাংসদ ৷ আমাদের কেউ এরকম পাস দিয়ে থাকলে, এতদিনে জেলে চলে যেতাম ৷ হয়তো সবরমতী জেলেই বন্দি থাকতাম ৷ এরপর কী পদক্ষেপ করা হয়েছে ?” এদিন ঘরভর্তি সাংবাদিকদের কাছে অমিত শাহ অভিযোগ করেন, তৃণমূলের তোষণের রাজনীতি, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হিংসার রাজনীতি করে ৷ গত 15 বছরে তৃণমূল সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতে অনুপ্রবেশের প্রধান করিডর হয়ে উঠেছে ৷ এই অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল সাংসদের প্রশ্ন, “কাকে দোষ দিচ্ছেন আপনি ? আমাদের (পশ্চিমবঙ্গের) বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তোলেন ৷ গত মাসে রাজ্যসভায় একটি প্রশ্নের উত্তরে অমিত শাহের মন্ত্রক জানিয়েছে, গত 10 বছরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাত্র 3 হাজার 500 জন বাংলাদেশিকে বাংলাদেশে ফেরানো হয়েছে ৷” শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “বিজেপি কেন্দ্রে রয়েছে ৷ 15 রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি ৷ সীমান্তে অবস্থিত বেশির ভাগ রাজ্যগুলিতে বিজেপি ৷ অমিত শাহ নিজে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ৷ তাহলে কীসের জন্য অপেক্ষা করছেন ?” কেন্দ্রের অনুপ্রবেশের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ব্রাত্য বসু ৷ তাঁর পাল্টা অভিযোগ দেশে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বাংলাদেশে পাঠাতে ব্যর্ত হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ৷ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন এসআইআর নিয়ে তোপ দাগেন মহুয়া ৷ তাঁর পাল্টা অভিযোগ, রাজ্যে অনুপ্রবেশকারী নেই ৷ মহুয়া জানান, বিহারে এসআইআর শেষে 250 জন নেপালি হিন্দু বিদেশি নাগরিকের সন্ধান পেয়েছিল নির্বাচন কমিশন ৷ তাঁরা বিহারের বাসিন্দাদের বিয়ে করে সেখানে বাস করছেন ৷ তিনি বলেন, “এসআইআর করা হচ্ছে, শুধুমাত্র যোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়ার জন্য ৷” বাংলার বকেয়া আটকে রাখার বিষয়টিও উত্থাপন করেন মহুয়া ৷ স্বাধীনতা সংগ্রামে কোনও গুজরাতির নাম খুঁজে পাওয়া যায় না বলেও কটাক্ষ করেন তৃণমূলের লোকসভা সাংসদ ৷ গত বছর দেশজুড়ে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষীদের উপর অত্যাচারের ঘটনা সামনে আসে ৷ তিনি পরিসংখ্যান দেন, 2 হাজারেরও বেশি বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নানাভাবে অত্যাচার করা হয়েছে ৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যে এসে নির্বাচনী প্রচারে ‘জয় মাকালী’ স্লোগান দিয়েছেন ৷ তাঁকে কটাক্ষ করে মহুয়া বলেন, “প্রথমে জয় শ্রীরাম বলতেন, এখন প্রধানমন্ত্রী জয় মাকালী বলেন ৷” এদিকে এই বিজেপির আইটি সেল বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি’ ভাষা বলে দাগিয়েছে বলে উল্লেখ করেন মহুয়া ৷ তিনি বলেন, “বিজেপি সাংসদ স্বামী বিবেকানন্দকে ধন্দে ভোগা কমিউনিস্ট বলেছেন, মধ্যপ্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী রাজা রামমোহন রায়কে ইংরেজদের দালাল বলছেন, রবীন্দ্রনাথ সান্যাল বলছেন, বঙ্কিমদা বলছেন- যে যা পারছেন বলে চলেছেন ৷ আর ভোটের আগে এসে বাংলা জিততে হবে বলে লড়াই শুরু করেছেন ৷”

