পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ভারত কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট করেছে যে, তাদের নাগরিক ও নাবিকদের নিরাপত্তা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ক্রমাগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। নৌপরিবহণ মন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রক উভয় ক্ষেত্রেই নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে সংবেদনশীল৷ কিন্তু, ভারত তার জনগণকে নিরাপদ রাখতে এবং বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে মজবুত ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী, গত 24 ঘণ্টায় কোনও ভারতীয় জাহাজ বা নাবিককে নিয়ে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পারস্য উপসাগরে থাকা 20টি ভারতীয় জাহাজ এবং সেগুলিতে থাকা 540 জন ভারতীয় নাবিক-কর্মী সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন। এদিকে, 50 জন ভারতীয় নাবিক-কর্মীকে নিরাপদে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে এবং কোনও প্রতিবন্ধকতা বা বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়নি।

নৌপরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে যে, জওহরলাল নেহরু বন্দর, কান্দলা, বিশাখাপত্তনম-সহ সমস্ত প্রধান বন্দরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মুন্দ্রা বন্দরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে৷ মধ্যপ্রাচ্যগামী কন্টেইনারগুলির জন্য 15 দিনের বিনামূল্যে সংরক্ষণের সুবিধা দিচ্ছে। এছাড়াও, বেশ কিছু চার্জ মওকুফ করা হয়েছে। বাণিজ্যের উপর প্রভাব কমানো এবং সংস্থাগুলিকে স্বস্তি দেওয়ার জন্যই এই প্রচেষ্টা বলে জানানো হয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, 28 ফেব্রুয়ারি থেকে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রায় 4,26,000 মানুষ ভারতে ফিরেছেন। ভারতীয়দের ঘরে ফেরানোর উদ্দেশ্যে 2,149টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ওমান এবং সৌদি আরব থেকে ফ্লাইটগুলি অবিচ্ছিন্নভাবে চলাচল করছে। কাতারের আকাশসীমা আংশিকভাবে পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকেও ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়েছে। কুয়েত এবং বাহরিন থেকে সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে৷ তবে সৌদি আরবের মাধ্যমে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে যে, আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মাধ্যমে ইরান থেকে ভারতীয়দের সরিয়ে আনা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত 717 জন ছাত্র-সহ 1,043 জনকে সেখান থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে। ইজরায়েল থেকে ভারতীয়দের জর্ডানের মাধ্যমে দেশে ফেরানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার আরও জানিয়েছে যে, রিয়াদের হামলায় একজন ভারতীয় নিহত হয়েছেন, যার মরদেহ ভারতে আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে।