মালদা ও মুর্শিদাবাদে বিচারকদের ঘেরাও এবং হামলার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণের পর রাজ্য রাজনীতিতে চড়েছে উত্তাপ । সেই আবহেই বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির ধুমুর পাহাড়ের জনসভা থেকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় । তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে কার্যত ‘সুপার রাষ্ট্রপতি শাসন’ চলছে এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা এখন আর তাঁর হাতে নেই । মালদা ও মুর্শিদাবাদে বিচারকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় শীর্ষ আদালতের ভর্ৎসনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন । তাঁর দাবি, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব এখন সম্পূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের হাতে এবং সেই কমিশন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নির্দেশেই কাজ করছে । মমতার কথায়, মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলির জেরে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে । এমনকী মালদার ঘটনার কথা তিনি রাত 12টায় সাংবাদিকদের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন । মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এই বিষয়ে রাজ্য প্রশাসন আমাকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেছিল । এমনকী বর্তমান মুখ্যসচিবও বিষয়টি জানাননি ৷” নির্বাচন কমিশন কেরল ও তামিলনাড়ু থেকে আধিকারিক এনে দায়িত্ব দিয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, বাংলার জনবিন্যাস বা ভূগোল সম্পর্কে অজ্ঞ এই আধিকারিকরাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন । পুরো অশান্তির জন্য বিজেপিকে দায়ী করে মমতার অভিযোগ, দিল্লি ও হায়দরাবাদ থেকে ‘ভাড়াটে লোক’ এনে অশান্তি ছড়ানো হচ্ছে । উদ্দেশ্য, সাধারণ মানুষকে উস্কে দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করা এবং পরে কেন্দ্রীয় সংস্থা দিয়ে ধরপাকড় চালানো । ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়েও সরব হন তৃণমূল নেত্রী । তাঁর দাবি, বিরোধীরা প্রায় 1 কোটি 20 লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল । তবে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় । আদালতের নির্দেশে 22 লক্ষ ভোটারের নাম বহাল রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি । তিনি সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেন, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তাঁরা 13টি প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে পুনরায় আবেদন করুন । তৃণমূল কংগ্রেস এই ক্ষেত্রে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি । মমতার আশঙ্কা, SIR-এর পরেই রাজ্যে NRC ও ডিলিমিটেশন কার্যকর করার চেষ্টা হতে পারে । বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কৃষক বন্ধুর মতো প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে বলেও সতর্ক করেন তিনি । সবশেষে মালদা ও মুর্শিদাবাদের মানুষকে শান্ত থাকার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী । তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, কোনও প্ররোচনায় পা দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না । আইন ভাঙলে সিবিআই বা এনআইএর হাতে গ্রেফতার হতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি ।

