তৃণমূলের নাম এবং ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে বিধানসভার উপনির্বাচন লড়তে পারবে না কেউ । বৃহস্পতিবার রাতেই এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন । এমতাবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ রায়ের শিবির কোন নাম ও প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়বে তা জানাতে বলা হয়েছিল । সেই মতো জবাব দিল মমতা শিবির । কমিশনের নির্দেশ জানার অব্যবহিত পরই বৃহস্পতিবার রাত 11টা 36 মিনিটে মেইল করে নিজেদের বক্তব্য জানায় কালীঘাট তৃণমূল । পাশাপাশি কমিশন যেভাবে ঘাসফুল প্রতীক ফ্রিজ করেছে তার তীব্র বিরোধিতাও করা হয় । তবে সেই মেইলে কী কী লেখা আছে তার বিস্তারিত এখনও কোনও পক্ষের তরফেই জানানো হয়নি ।বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক নতুন পরিস্থিতিতে পড়েছে তৃণমূল। মমতার হাতে তৈরি দলে একসময় তাঁর কোনও সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা ছিল প্রায় আকাশকুসুম। এখন সেখানেই প্রকাশ্য বিরোধিতা । শুরুটা হয়েছিল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়াকে ঘিরে । মমতা চেয়েছিলেন দলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করতে ।

সেই সিদ্ধান্ত শেষমেশ বাস্তবায়িত হয়নি । প্রথমে তৃণমূলের তরফে বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি লিখে জানানো হয় শোভনদেব হবেন বিরোধী দলনেতা । সেই চিঠিতে দলের তরফে সই করেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । কিন্তু ঋতব্রতর পাশাপাশি আরেক তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা দাবি করেন, ওই চিঠিতে থাকা বিধায়কদের সই জাল করা হয়েছে । সেই ঘটনায় এখন সিআইডি তদন্ত করছে । মামলায় হাজিরাও দিতে হয়েছে অভিষেককে ।এরই মধ্যে তৃণমূলের 58 জন বিধায়ক স্পিকারকে জানান তাঁরা উলুবেরিয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে ওই পদে দেখতে চান । তাঁকেই মান্যতা দেন স্পিকার । সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন শোভনদেব । সিঙ্গল বেঞ্চ প্রাথমিকভাবে স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে । তবে আদালত এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে চায়নি । পরে ডিভিশন বেঞ্চে যায় কালীঘাট শিবির। সেখান থেকে মামলা অবার ফিরেছে সিঙ্গল বেঞ্চে । মামলা সিঙ্গল বেঞ্চে পাঠানোর আগে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে ঋতব্রত আপাতত ‘অস্থায়ী’ বিরোধী দলনেতা ।এমনই আবহে বৃহস্পতিবার রাতে কমিশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় নন্দীগ্রাম আর রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই শিবিরের কেউই দলীয় প্রতীক ঘাসফুল ব্য়বহার করতে পারবে না । অর্থাৎ প্রতীকটি ‘ফ্রিজ’করে দিয়েছে দেশে নির্বাচন আয়োজনের নিয়ামক সংস্থা । দুটি শিবির কোন নামে নির্বাচনে লড়তে চায় সেটাও জানাতে বলেছিল কমিশন । এবার সেই প্রশ্নের জবাব দিল মমতা শিবির ।