বিহারের রাজপাট গুটিয়ে ফের দিল্লির দরবারে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ৷ শুক্রবার তিনি রাজ্যসভার নির্বাচিত সদস্য হলেন ৷ দেশের উপ-রাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন তাঁর কনফারেন্স রুমে জেডি(ইউ) প্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান ৷ এই উপলক্ষ্যে প্রবীণ নীতীশকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ সোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “নীতীশ কুমারজি দেশের একজন অভিজ্ঞ নেতা ৷ তাঁর সুশাসন সর্বত্র প্রশংসিত ৷ বিহারের উন্নয়নে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয় ৷ সংসদে তাঁকে আরও একবার দেখতে পাব, এটা খুবই আনন্দের ৷ তিনি বহু বছর সংসদের সদস্য ছিলেন ৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হয়েছিলেন ৷ তাঁর এই দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সংসদের গৌরব আরও বৃদ্ধি করবে, এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত ৷ রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে তিনি শপথ নিয়েছেন, তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ৷” উপ-রাষ্ট্রপতি ছাড়া এদিনের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, রাজ্যসভার নেতা জেপি নাড্ডা, আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল, কৃষি মন্ত্রী রামনাথ ঠাকুর, পঞ্চায়েত রাজ মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং, কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশ এবং বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরী ৷ উপ-রাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণনও সোশাল মিডিয়ায় এই শপথবাক্য পাঠের ছবি পোস্ট করেছেন ৷ তিনি লিখেছেন, “দেশের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান শ্রী সিপি রাধাকৃষ্ণন শ্রীনীতীশ কুমারকে বিহার থেকে রাজ্যসভার একজন নির্বাচিত সদস্য হিসাবে শপথ বাক্য পাঠ করালেন ৷” এদিনই রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে শপথ নেন উচ্চকক্ষের ডেপুটি-চেয়ারম্যান হরিবংশ ৷ 9 এপ্রিল তাঁর মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে ৷ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু হরিবংশকে মনোনীত করেন ৷ দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ছেড়ে যাওয়া আসনটি ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল ৷ সেই আসনে দ্বিতীয়বার সাংসদ হলেন প্রবীণ হরিবংশ ৷ শপথ শেষে সংসদের বাইরে বেরিয়ে এলে সাংবাদিকরা নীতীশ কুমারকে ঘিরে ধরেন ৷ তখন তিনি পুরনো সংসদ ভবনের দিকে হাতজোড় করে প্রণাম করেন ৷ একসময় তিনি এই পুরনো ভবনে বসতেন, সেই দিনের কথা স্মরণ করেন ৷ 75 বছর বয়সি জেডি(ইউ) সভাপতি বিহারের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ৷ 2005 সালে তিনি প্রথম বার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন ৷ এরপর রাজ্যে নানা রাজনৈতিক উথালপাথালের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছেন নীতীশই ৷ মাঝে 2014-15 সালে 9 মাস মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না তিনি ৷ দল বদলে লালুর আরজেডি’র সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন ৷ দেড় বছরের মধ্যে সেই মহাগঠবন্ধন জোট ভেঙে ফের বিজেপির এনডিএ জোটে ফিরেছেন ৷ আখ্যা পেয়েছেন ‘পল্টুরাম’ ৷ গত বছরের নভেম্বরে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোটের কোনও মুখ্যমন্ত্রী মুখ ছিল না ৷ কিন্তু বিজেপি নির্বাচনী প্রচারে বারবার নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে সরকার গড়ার কথা বলেছে ৷ 243টি আসনের মধ্যে 89টি আসন পেয়ে মাত্র 4টি আসনে জেডি(ইউ)-র থেকে এগিয়ে ছিল বিজেপি ৷ নীতীশ কুমারের দল পেয়েছিল 85টি আসন ৷ এই সমীকরণ সত্ত্বেও নীতীশ কুমারকেই মুখ্যমন্ত্রী করে এনডিএ জোট ৷ 20 নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন নীতীশ কুমার ৷ এর চার মাসের মধ্যে গত 4 মার্চ রাজ্যসভায় যাওয়ার কথা ঘোষণা করেন বিহারের নব-নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ৷ 5 মার্চ মনোনয়নপত্র পেশ করেন এবং 16 মার্চ উচ্চকক্ষে নির্বাচিত হন ৷ গত 30 মার্চ বিধান পরিষদের সদস্য পদে ইস্তফা দিয়েছেন নীতীশ ৷ এরপরেও মুখ্যমন্ত্রী পদে তিনি ছ’মাস থাকতে পারেন ৷ সংবিধান অনুযায়ী, সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার 14 দিনের মধ্যে তাঁকে বিধান পরিষদের সদস্য পদে ইস্তফা দিতেই হত ৷ এদিকে বিহারের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর সন্ধানে খোঁজ শুরু হয়েছে ৷ সূত্রের খবর, এদিনই রাজধানীতে উচ্চস্তরীয় বৈঠক করবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ৷ নীতীশ-বিহীন বিহারে নয়া পর্বের সূচনা হল এবার বিজেপির হাত ধরে ৷