48 ঘণ্টা থাকলেও ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার বিষয়ে কোনও জটিলতা হবে না ৷ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এমনটাই জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল । তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশ অনুসারে 19 জন বিচারককে নিয়ে যে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে সেখানে যেমনভাবে নাম নিষ্পত্তি হবে সেইসব নাম তৎক্ষণাৎ ভোটার লিস্টে নথিভুক্ত হয়ে যাবে । এই নিয়ে ভোটারদের কোনও চিন্তা নেই ৷ নির্বাচনের দু’দিন আগে নিষ্পত্তি হলেও ভোটদানের আগেই তাঁর নাম তালিকায় রয়েছে কিনা তা জানতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ভোটার ৷ প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা গত 9 এপ্রিল ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে । কিন্তু বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে, প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য আগামী 21 এপ্রিল পর্যন্ত যাঁদের নাম নিষ্পত্তি হয়ে যাবে তাঁদেরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে । নতুন তালিকায় থাকা ভোটাররাও ভোট দিতে পারবেন ৷

তবে এখনও পর্যন্ত কতগুলি কেসের নিষ্পত্তি হয়েছে ট্রাইব্যুনালে সেই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ৷ কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিদিনই অনেক নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে ৷ সেক্ষেত্রে যতক্ষণ না ড্যাশবোর্ড তৈরি হচ্ছে ততক্ষণ সঠিক সংখ্যা বলা সম্ভব নয় ৷ তিনি আরও জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটিই অনলাইনে সম্পন্ন হবে ৷ সমস্ত আবেদন ডিজিটাল মাধ্যমে গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ৷ ফলে ভোটার তালিকায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নাম যুক্ত করার সুযোগ থাকবে । আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে কমিশনের কোনও অসুবিধা হবে না । এই অনলাইন ব্যবস্থাটি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং যেসব ভোটার নাম নথিভুক্ত করতে বা তাঁদের তথ্য সংশোধন করতে চান, তাঁদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজলভ্য হবে । এই ডিজিটাল ব্যবস্থার সুবাদে যোগ্য নাগরিকরা একেবারে শেষ মুহূর্তেও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করতে পারবেন ।কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) প্রক্রিয়াকালে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে করা আবেদনগুলির নিষ্পত্তির লক্ষ্যে 19টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছেন ৷ এই ট্রাইব্যুনালগুলির নেতৃত্বে রয়েছেন হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং বিচারপতিরা । যাঁরা তাঁদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছেন, তাঁরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন কি না—এই প্রশ্নের জবাবে আগরওয়াল জানান যে, ওইসব আবেদনকারীদের ইতিমধ্যেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ৷ আদালতের নির্দেশিকা মেনে নির্বাচনী প্রক্রিয়াগুলির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এবং নির্বাচনে নাগরিকদের ব্যাপকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হল এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য ।অন্যদিকে, মেটিয়াবুরুজ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার কথা বলার একটি অভিযোগ সামনে এসেছে ৷ এই নিয়ে বিজেপি থেকে শুরু করে অন্যান্য বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন । এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন যে, এখনও সিইও দফতরে এরকম কোনও অভিযোগ আসেনি ৷ তবে অভিযোগ এলে নিঃসন্দেহে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে ।