উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে ভোটের প্রচারে গিয়ে প্রত্যাশিত ভাবেই আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিধানসভা ভোটে পানিহাটি কেন্দ্রে আরজি করের নির্যাতিতার মা-কে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তাঁর সমর্থনে সেখানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘এই মা মেয়েকে ডাক্তার বানিয়েছিলেন। তৃণমূলের জঙ্গলরাজ সেই মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়েছে। আমরা তাঁর মাকে প্রার্থী করেছি।’ ২০২৪ সালের ৯ অগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসকের উদ্ধার দেহ উদ্ধার ঘিরে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য-রাজনীতি। চিকিৎসক-পড়ুয়াকে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। পরে ঘটনার তদন্তভার যায় কলকাতা পুলিশের হাতে। শেষ পর্যন্ত নিম্ন আদালত সঞ্জয়কেই দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা দেয়। তখন থেকেই সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। মেয়েকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় আর কেউ কেন ধরা পড়েননি, মূলত তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তাঁরা। ঘটনাচক্রে, সিবিআই প্রশাসনিক ভাবে কর্মীবর্গ মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে, যা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (পিএমও)-এর আওতাধীন। নির্যাতিতার মা বিজেপির প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই লাগাতার তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তাঁর কিছু মন্তব্যে বিতর্কও হয়েছে। তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। তবে তৃণমূল নেত্রী মমতা নির্বাচনী জনসভা থেকে নির্যাতিতার মায়ের নাম না–করে তাঁকে সৌজন্য বজায় রাখতে বার্তা দিয়েছেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সম্প্রতি পানিহাটিতে প্রচারে এসে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বিজেপি প্রার্থীকে কেউ যেন শালীনতার সীমা অতিক্রম করে আক্রমণ না–করেন। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারই শিয়ালদহ আদালতে আরজি করে ধর্ষণ-খুনের মামলার স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছিল সিবিআই। সেই সময় আদালতে হাজির ছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। পরে তাঁরা বাইরে বেরোলে তাঁদের সিবিআই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তার জবাবে নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী বলেন, ‘সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে।