পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর চেষ্টায় বড়সড় ধাক্কা। ইরানের সাথে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরুর ঠিক আগেই মার্কিন প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর বাতিল করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক সাক্ষাৎকারে ৭৯ বছর বয়সী এই রিপাবলিকান নেতা সাফ জানিয়েছেন, আলোচনার সব চাবিকাঠি আমেরিকার হাতেই রয়েছে, তাই ১৮ ঘণ্টা সফর করে ইসলামাবাদ যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখছেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি আমার লোকেদের কিছু সময় আগেই বলেছি—তোমরা যাচ্ছ না। ১৮ ঘণ্টার বিমান যাত্রা করে ওখানে গিয়ে অর্থহীন আলোচনা করার কোনো মানে হয় না। আমাদের হাতেই সব কার্ড রয়েছে। ওরা (ইরান) চাইলে আমাদের যেকোনো সময় কল করতে পারে।” উল্লেখ্য, মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হলো। ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক মন্তব্য এমন সময়ে এল, যার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাথে বৈঠক সেরে পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন। পাকিস্তান এই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল। ইরান অবশ্য জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে সম্মান জানালেও আমেরিকার কোনো ‘অযৌক্তিক দাবি’ মেনে নেবে না। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, আমেরিকার সাথে সরাসরি কোনো কথা হবে না; পাকিস্তানই তাদের বার্তা বহন করবে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই ‘ম্যাক্সিমাল প্রেসার’ বা চরম চাপের মুখে পড়ে ইরান সরাসরি হোয়াইট হাউসের দরজায় কড়া নাড়ে কি না।