ভোটগণনা কেন্দ্রে সুপারভাইজার হিসেবে শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদেরই নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন ৷ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেল তৃণমূল ৷ আগামিকাল, শনিবার সকাল সাড়ে 10টা নাগাদ জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি শুনবে বিচারপতি পিএস নরসিমা এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ ৷ গণনাকেন্দ্রে কাউন্টিং সুপারভাইজার হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগের বিরুদ্ধে তৃণমূলের দায়ের করা মামলা বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট ৷ সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ রাজ্যের শাসকদল। জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করা হয়েছে শীর্ষ আদালতে ৷ কারণ 4 মে, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা।প্রত্যেক গণনা টেবিলে কমপক্ষে একজন কাউন্টিং সুপারভাইজার বা সহকারী হিসাবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী নিয়োগে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৃণমূলের করা মামলায় গতকাল হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশে জানান, গণনাকেন্দ্রে কাদের কাউন্টিং সুপারভাইজার হিসাবে নিযুক্ত করা হবে সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না ৷

বিচারপতি কৃষ্ণা রাও তাঁর নির্দেশে ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের 100 নম্বর ধারার উল্লেখ করেন ৷ তিনি জানান, যদি দেখা যায় সুপারভাইজার হিসেবে থাকা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী বিজেপি প্রার্থীকে কোনও রকম অন্যায় সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন এবং তার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও প্রার্থী নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন তাহলে সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইলেকশন পিটিশন দায়ের করতে পারবেন ওই তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ৷গণনাকেন্দ্রে শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদেরকে কাউন্টিং সুপারভাইজার হিসেবে নিযুক্ত করার বিরুদ্ধে তৃণমূলের দায়ের করা মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশন একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, “কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করছে ৷ তারা কেন শুধুমাত্র কেন্দ্র সরকারি কর্মচারীদের নিচ্ছে ? মাইক্রো অবজারভার, কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্টরা আগেই নিযুক্ত হয়েছেন ৷ তারপর আবার কেন সুপারভাইজার (শুধুমাত্র কেন্দ্র সরকারি কর্মচারীদের) নিযুক্ত করা হবে ? অন্য কোন রাজ্যে এটা হয়নি ৷” পাল্টা নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, ‘ হ্যান্ডবুক ফর রিটানিং অফিসার্স 2026 ‘ অনুযায়ী কাউন্টিং সুপারভাইজারদের গেজেটেড অফিসার হতে হবে ৷ অথবা হতে হবে গ্রুপ-বি বা সি ক্যাটেগরি আধিকারিক ৷ তিনি রাজ্যের বা কেন্দ্রের হতে পারেন ৷ সেই রুল মেনেই অফিসারদের নির্বাচন কমিশন নিয়োগ করেছে ৷ কোন রাজনৈতিক দলের এ বিষয়ে অধিকার নেই আপত্তি জানানোর। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলা খারিজ করে দেয় ৷ রাজ্যে এবার দু’দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে ৷ 23 এপ্রিল, প্রথম দফায় ভোট হয়েছে 152টি আসনে ৷ আর 29 এপ্রিল, দ্বিতীয় দফায় ভোট হয়েছে বাকি 142টি আসনে ৷ ইভিএম এই মুহূর্তে স্ট্রংরুমে নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে ৷ আগামী 4 মে, ভোটগণনা ৷