15 বছরে রাজত্ব শেষ ৷ রাজ্যে প্রত্যাবর্তন হল না তৃণমূলের ৷ বাংলার জনতা জনার্দন পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিলেন ৷ ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে বঙ্গ জয় বিজেপির ৷ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে 206টি আসন পেয়েছে গেরুয়া শিবির ৷ আর সেখানে তৃণমূল আটকে গেল 80-র ঘরে ৷ কংগ্রেস পেয়েছে দুটি আসন ৷ বিজেপির সরকার গড়া এবার কেবল সময়ের অপেক্ষা ৷ বাংলায় মসনদে খুব শীঘ্র দেখা যাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলের মুখ্যমন্ত্রীকে ৷ বিজেপির এই বিপুল জয়ের নেপথ্যে তৃণমূলকেই দুষলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ৷ তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পথ প্রশস্ত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ।” তৃণমূলকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন তিনি ৷ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, “রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় ঘটেছে ৷ বিজেপি প্রথমবারের জন্য পশ্চিমবঙ্গে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার তৈরি করতে চলেছে । তৃণমূল কংগ্রেসের 15 বছরের রাজত্বে সীমাহীন দুর্নীতি, রাজনৈতিক হিংসা, নারী নির্যাতন, আরজি কর-কাণ্ডের মতো সাংঘাতিক অপরাধ এবং সেই অপরাধীদের আড়াল করার অপচেষ্টা, অনুন্নয়ন, বেকারত্ব ইত্যাদি জনগণের মনে যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল, ভোটে তারই প্রতিফলন ঘটেছে । বিজেপি এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বাংলায় ক্ষমতা দখল করতে চলেছে ।”নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটচুরির অভিযোগ তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ৷ শুভঙ্কর সরকার বলেন, “নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা যে শুরু থেকেই পক্ষপাতদুষ্ট ছিল, তা এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় 91 লক্ষ নাম বাদ যাওয়া থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে ৷ যার মধ্যে 27 লক্ষ তথ্যগত অসঙ্গতির ভিত্তিতে বাদ পড়েছে । এসআইআর ট্রাইব্যুনালে এখনও 34 লক্ষের বেশি আপিল বিচারাধীন রয়ে গিয়েছে । অনেক বৈধ ভোটার এবারে ভোট দিতে পারেননি । এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ ভোটারদের নাম কেটে বিজেপির বড় জয়ের মাত্রা সুনিশ্চিত করা হয়েছে । এটাও এক ধরনের ভোট চুরি ।” প্রার্থীদের জয় ও বিধানসভা নির্বাচনে দলের ফলাফল নিয়েও মত প্রকাশ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ৷ শুভঙ্কর সরকার বলেন, “প্রদেশ কংগ্রেস দীর্ঘ দুই দশক পর রাজ্যের প্রায় সমস্ত কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছিল । ফরাক্কায় মোতাব শেখ এবং রানিনগর কেন্দ্রে জুলফিকার আলি-দের মতো কংগ্রেস প্রার্থীদের জয় অত্যন্ত ইতিবাচক । অনেক জেলায় কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোটের হার আশানুরূপ না-হওয়ার কারণ কংগ্রেস দল অবশ্যই পর্যালোচনা করবে ।”
কংগ্রেস বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান তিনি ৷ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের রায়কে শ্রদ্ধার সঙ্গে মাথা পেতে নিয়ে আগামিদিনে কংগ্রেস দল বিধানসভার ভিতরে দায়িত্বশীল বিরোধীর এবং বাইরে জনস্বার্থে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে; গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে কংগ্রেস । রাজ্যের উন্নয়নে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসই যে একমাত্র বিকল্প সেই প্রত্যয় নিয়ে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এ রাজ্যে পথ চলতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ ।”

