গুজরাতের বন্দরে এসে পৌঁছল ২০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ৷ শনিবার গভীর রাতে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি নিয়ে হরমুজ হয়ে একটি জাহাজ গুজরাতের কান্দালা বন্দরে এসে পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে রবিবার সন্ধ্যায় ৷ দীনদওয়াল বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটি কাতার থেকে রওনা দিয়েছিল ৷ পথে ১৩ মে হরমুজ অতিক্রম করে ৷ এর আগে মার্চ মাসের ১৩ তারিখ ১২টি এলপিজি ট্যাঙ্কার নিয়ে একটি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করে ভারতে আসে ৷ ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল ও আমেরিকার সামরিক সংঘাতের আবহেও ভারতীয় জাহাজের জন্য় হরমুজ কখনই সম্পূর্ণ বন্ধ করেনি তেহরান ৷ তবে তার জন্য অপ্রীতিকর ঘটনা যে সম্পূর্ণ এড়ানো গিয়েছে তা নয় ৷ গত বুধবার ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে ৷ ওই জাহাজটি সোমালিয়া থেকে আসছিল ৷ জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককেই উদ্ধার করে ওমান ৷ তাঁরা সকলেই সুস্থ আছেন ৷ তবে এই হামলা কারা চালিয়েছিল এবং কেন চালানো হয়েছিল সেটা এখনও স্পষ্ট নয় ৷ হরমুজ প্রণালীতে হামলা চালানো নিয়ে শনিবার রাষ্ট্রসঙ্ঘে ক্ষোভ উগরে দেন ভারতের প্রতিনিধি ৷ প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিন থেকে ৷ সেদিন আচমকাই ইরানে যৌথ সামরিক হামলা চালায় আমেরিকা এবং ইজরায়েল ৷ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান ৷ পৃথিবীর মোট জ্বালানির 20 শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই নানা দেশে যায় ৷ সেই পথ বন্ধ হওয়ার সরাসরি অর্থ জ্বালানির প্রবল সঙ্কট ৷ যদিও সংঘাতের একেবারে প্রথম দিন থেকে ভারত বলে আসছে দেশে জ্বালানি সঙ্কট নেই ৷ পেট্রল-ডিজেল থেকে শুরু করে এলপিজি পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত আছে ৷ তবে ইরান যুদ্ধ যে গোটা দুনিয়ার মতো ভারতকেও বড় চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে সে কথা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ মধ্যপ্রাচ্যের এই সঙ্কট নিয়ে সংসদে বিবৃতিও দেন তিনি ৷ সেখানে তিনি জানান, করোনার মতো এই সঙ্কটের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে ৷
সম্প্রতি হায়দরাবাদের একটি সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী জানান, যুদ্ধের জন্য় পেট্রল-ডিজেলের দাম অনেকটা বেড়েছে ৷ সে সব কিনতে ভারতের প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হচ্ছে ৷ আর তাই অন্যদিক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানোর চেষ্টা করতে হবে ৷ তার জন্য আগামী একবছর সোনা কেনা বন্ধ রাখা দরকার ৷ খুব জরুরি কারণ ছাজ়া বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত রাখতে হবে ৷

