এবার সর্বস্তরের সরকারি কর্মীদের মুখ বন্ধ করল নবান্ন। সরকারি অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যম কিংবা সোশাল মিডিয়ায় যে কোনও ধরনের মন্তব্য বা মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য প্রশাসন ৷ গত বুধবার এই সংক্রান্ত একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর, 24 ঘণ্টার ব্যবধানে বৃহস্পতিবার সেই নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হল।  বুধবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল নির্দেশিকা দিয়ে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের আধিকারিক থেকে কর্মী, কেউ রাজ্য কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও নীতির সমালোচনা কোনও মাধ্যমে করতে পারবেন না। অল ইন্ডিয়া সার্ভিস, পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস সহ সমস্ত কর্মচারীদের বলা হয়েছে, তাঁরা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান, লেখালেখি বা মিডিয়া কার্যকলাপে অংশ নিতে পারবে না। অনুমতি ছাড়া মিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া যাবে না।  প্রশাসন সূত্রে খবর, গত 20 মে অর্থাৎ বুধবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মী ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর (P&AR) থেকে জারি করা এক নির্দেশিকায় অল ইন্ডিয়া সার্ভিস (AIS) তথা আইএএস (IAS), আইপিএস (IPS), পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস (WBCS), পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস (WBPS) এবং রাজ্য সরকারের মূল দফতর গুলির অধীনে থাকা সমস্ত স্তরের কর্মীদের জন্য এই কঠোর আচরণবিধি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। সরকারের স্পষ্ট বার্তা ছিল, প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মী- অনুমতি ছাড়া কেউই সংবাদমাধ্যম বা সোশাল প্ল্যাটফর্মে মুখ খুলতে পারবেন না। এর ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ 21 মে (বৃহস্পতিবার) রাজ্য প্রশাসনের তরফে আরও একটি নতুন নির্দেশিকা বা মেমোরেন্ডাম জারি করা হয়। নতুন এই বিজ্ঞপ্তিতে বিধিনিষেধের পরিধি আরও ব্যাপক করা হয়েছে। নবান্নের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগের নিয়মের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এই নতুন সিদ্ধান্ত। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকা সমস্ত বোর্ড (Boards), কর্পোরেশন (Corporations), সরকারি আন্ডারটেকিং (Undertakings) এবং অন্যান্য আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার (Parastatal organizations) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম একইভাবে প্রযোজ্য হবে ৷