সরকারি কর্মীদের মত প্রকাশে বাধা! নবান্নর কড়া নির্দেশিকার পর এবার টুইটারে ক্ষোভ প্রকাশ তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। এই সার্কুলারে এই বাক্যটি একটি সতর্কবার্তার মতো- সুশাসন রক্ষার জন্য নয়, বরং সমগ্র বাংলা জুড়ে সরকারি কর্মচারীদের উপর নীরবতা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য।
🔴 কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের সমালোচনা করা যাবে না।
🔴 সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলা যাবে না।
🔴 প্রবন্ধ লেখা যাবে না।
🔴 গণমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা যাবে না।
🔴 দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে এমন কোনও মতপ্রকাশ করা যাবে না।
এই সার্কুলারটি শৃঙ্খলার জন্য নয়, এটি দিল্লিতে বসে থাকা প্রভুদের প্রতি সম্পূর্ণ আনুগত্য নিশ্চিত করার জন্য, বাকস্বাধীনতা খর্ব করা এবং পদ্ধতিগতভাবে মৌলিক অধিকারের গলা টিপে ধরার উদ্দেশ্যে জারি করা হয়েছে। বিজেপির রিমোট-নিয়ন্ত্রিত শাসনে, নীরবতা এখন একটি প্রশাসনিক আবশ্যকতা।
সংক্ষেপে: যা বলা হবে তাই ভাবুন। অনুমতি পেলেই কেবল কথা বলুন।
যখন কোনও সরকার সমালোচনা সহ্য করতে পারে না, তখন তারা ভিন্নমত দমন করতে শুরু করে। এটা শক্তি নয় – এটা গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ!’ নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী কোনও সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকী বেসরকারি ভাবে তৈরি বা স্পনসরড অনুষ্ঠানেও যোগদানের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। রাজ্যে সকল আইএএস, ডবলিউবিসিএস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস-এর আধিকারিকদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি কর্মচারী, জেল কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বোর্ড, পুরসভা, পুর নিগম ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নির্দেশিকা বহাল রয়েছে।
মুখ্যসচিবের নির্দেশ, কোনও সংবাদমাধ্যমে সরকারি তথ্য, নথি বা প্রশাসনিক কাগজপত্র প্রকাশ করাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী সংবাদপত্র, পত্রিকায় লেখালেখি, কোনও পত্রিকা সম্পাদনা, পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারবেন না। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নিয়ম ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অযথা সমালোচনা করা ও নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

