বিধানসভার ভিতরে সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত প্রেস কর্নার বা মিডিয়া পয়েন্টে তাঁকে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে শুক্রবার সরব হলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ৷ এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি৷ তাঁকে সমর্থন করেছেন বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও৷ এদিন বিধানসভার 2 নম্বর গেটের সামনে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমকে বেলেঘাটার বিধায়ক জানান, জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে এদিন বিধানসভার ভিতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি৷ তাঁকে বিধানসভার মিডিয়া পয়েন্টে ঢুকতে দেওয়া হয়নি৷ স্পিকারের সঙ্গেও তিনি এদিন দেখা করতে পারেননি৷ এনিয়ে নিজের হতাশা গোপান রাখেননি তিনি৷ কুণাল বলেন, “একজন বিধায়ক হিসাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার অধিকার আমার রয়েছে৷ কিন্তু বিধানসভার ভিতরে আমাকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি৷ বিধানসভা পরিসরে এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও অনভিপ্রেত৷” দলের মুখপাত্রকে সমর্থন জানিয়ে বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বিধানসভার প্রেস কর্নারে একজন জনপ্রতিনিধিকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে দেখা করার জন্য নাকি উপযুক্ত অনুমোদন নিতে হবে৷ কোনও গণতান্ত্রিক দেশে এমনটা হতে পারে? লোকসভা কিংবা দেশের কোনও বিধানসভায় কি এই নিয়ম রয়েছে? এটা বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার একটা ব্যবস্থা৷ এর ফলে সাংবাদিকরাও বিধানসভার প্রেস কর্নারে যেতে পারবেন না৷’’ বালিগঞ্জের বিধায়ক আরও বলেন, ‘‘তৃণমূলের আমলে সাংবাদিকরা বিধানসভায় আমাদের ঘরে আসতে পারতেন, কথা বলতে পারতেন৷ প্রয়োজনে মোবাইল ফোনে সাক্ষাৎকারও নিতে পারতেন৷ সেসব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন৷ অথচ এখানে সংবাদমাধ্যমের সেই স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে৷ আসলে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে৷” বিরোধী দলনেতা হিসাবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিধানসভায় জমা পড়েছে৷ তাতে স্বাক্ষর রয়েছে ঘাসফুলের 70 জন বিধায়কের৷ কিন্তু অভিযোগ, সেখানে অনেক তৃণমূল বিধায়কের জাল স্বাক্ষর রয়েছে৷ এনিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি৷ এদিন বেলেঘাটার বিধায়কের কাছে যাওয়ার কথা ছিল সিআইডি আধিকারিকদের৷ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কুণাল বলেন, “তাঁরা বেলা 12টার মধ্যে আসবেন বলেছিলেন৷ আমি বেলা তিনটে পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর বিধানসভায় আসি৷ সিআইডি এলে আমি পূর্ণ সহযোগিতা করব৷ বিষয়টি নিয়ে আজ দলীয় স্তরে আলোচনা হবে৷ তাই এনিয়ে এই মুহূর্তে আমি কিছু বলছি না৷ কিন্তু বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য যতজন বিধায়কের প্রয়োজন হয়, তার থেকে অনেক বেশি বিধায়ক নিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্য জমা দিয়েছেন৷”