নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধায়কদের সই-জাল করার অভিযোগ তোলেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে ৷ নাম না-করে শুধু ‘আঞ্চলিক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক’ হিসাবে উল্লেখ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৷ স্বাক্ষর জাল নিয়ে তাঁকে নিশানা করে শুভেন্দু স্পষ্ট করেন জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয় এবং তদন্তে নেমেছে সিআইডি ৷ এরপর সঙ্গে সঙ্গে দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে তৃণমূল ৷ তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ইতিমধ্যে অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে ৷ তবে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী ঋতব্রত এবং সন্দীপন- এই দুই নেতারই বিধায়ক পদ আপাতত বহাল থাকছে ৷ এই বহিষ্কারের ঠিক আগেই নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় বিধায়কদের সই-জাল বিতর্ক নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ৷ তিনি জানান, গত 9 মে বিধানসভার অধ্যক্ষকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক একটি চিঠি লিখে জানান যে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করা হয়েছে ৷ পরে অধ্যক্ষের নির্দেশে 20 মে তৃণমূলের তরফে 70 জন বিধায়কের স্বাক্ষর সংবলিত একটি রেজোলিউশনের কপি জমা দেওয়া হয় ৷ কিন্তু 26 মে ওই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করে জানান যে, ওই রেজোলিউশনটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং কপিতে অন্তত 14 জন বিধায়কের স্বাক্ষর ইংরেজি ব্লক লেটারে করা হয়েছে ৷ এই অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যক্ষের নির্দেশে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর হয় এবং পরে পুলিশ মন্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেন ৷ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সিআইডি তদন্তে নেমে 13 জন বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে, যাঁদের মধ্যে বাহারুল ইসলাম, অরূপ রায় এবং শুভাশিস দাস ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছেন যে রেজোলিউশনে স্বাক্ষর তাঁদের নয় ৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, আচমকা এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে তৃণমূল নেতৃত্বের গভীর কৌশল লুকিয়ে রয়েছে ৷ শাসকদলের অন্দরে বেশ কিছু দিন ধরেই বিক্ষুব্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের একটি জোট তৈরি হচ্ছিল, যার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ এই দুই বিধায়ককে দল থেকে বের করে দিয়ে তৃণমূল কার্যত সেই গজিয়ে ওঠা বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর ভিতটাই নাড়িয়ে দিতে চাইছে ৷ এর ফলে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর রাশ যেমন এদের হাত থেকে বেরিয়ে গেল, তেমনই বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী তারা দলহীন বিধায়ক হিসেবে কাজ করতে পারবে ৷