‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানবেন না’
বিধানসভায় স্পিকার রথীন্দ্রনাখ বোসকে চিঠি তৃণমূল কংগ্রেসের ৫৯ ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের। বিরোধী দলনেতা হিসেবে নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের।তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দলনেত্রী বলে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। ডেপুটি শিউলি সাহা, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহা। মুখ্য সচেতক রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানবেন না বলবে জানিয়েছেন বিদ্রোহীরা বলৃে সূত্রের খবর। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যের তৃণমূল কংগ্রেসে এবার বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত ! সদ্য দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার বিধানসভায় পৌঁছতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে ৷ সূত্রের খবর, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠী’র দিকে। এদিন এই জল্পনা ঘিরেই সরগরম হয়ে ওঠে বিধানসভা চত্বর। বিরোধী শিবিরের এই ‘বিদ্রোহ’ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
গত ১ জুন দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয় উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে। দলের তরফ থেকে কড়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, একাধিকবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করা এবং দলের স্বার্থবিরোধী কাজ করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে । তাঁদের সমস্ত পদ ও দায়িত্ব থেকে রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই ঋতব্রতের এই নয়া পদক্ষেপ শাসকদলের অস্বস্তি যে অনেকটাই বাড়িয়ে দিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এটিকে মহারাষ্ট্রের ‘শিন্ডে মডেল’ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল ৷ বুধবার সকালে আচমকাই বিধানসভায় পৌঁছন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েকজন অনুগামী বিধায়কও উপস্থিত রয়েছেন । তৃণমূলের অন্দরে একটি বড় মাপের ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠী’ তৈরি হয়েছে এবং ঋতব্রতের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৫৯ জন বিধায়ক এই মুহূর্তে তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন । যদিও প্রকাশ্যে ওই বিদ্রোহী বিধায়কদের নাম এখনও খোলসা করা হয়নি। বিধানসভায় এসে তিনি কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বা তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ ঠিক কী হতে চলেছে, তা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও তিনি এখনই সবটা স্পষ্ট করতে নারাজ। ঋতব্রতের পাশাপাশি এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহার ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। একটি বিশেষ ‘ভুয়ো স্বাক্ষর’ (Forged Signature) বিতর্কে নাম জড়ানোর পরই এই দুই নেতার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। যদিও বহিষ্কারের পর সন্দীপন বা ঋতব্রত কেউই প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি। কিন্তু এদিন বিধানসভায় ঋতব্রতের নাটকীয় উপস্থিতি প্রমাণ করে দিল যে, তাঁরা বিনা যুদ্ধে জমি ছাড়তে একেবারেই নারাজ।

