গঙ্গা ভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে আজ (মঙ্গলবার) দিল্লি যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণ থেকে বেরোনোর পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের এই দিল্লি সফরের কারণ স্পষ্ট করেন তিনি। বিভিন্ন মহলে এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হলেও মুখ্যমন্ত্রী তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের সূচি রয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সাফ জানান, এই সফর কোনওভাবেই রাজনৈতিক নয়। তাঁর কথায়, “না না, রাজনৈতিক সফর নয়। কাল মালদা, মুর্শিদাবাদের গঙ্গা ভাঙন এবং বন্যাকে স্থায়ীভাবে রোখার জন্য বৈঠক ডেকেছেন জলশক্তি মন্ত্রী। বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং সেচ দফতরকে নিয়ে, মুখ্য সচিবরাও থাকবেন। ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্যই যাচ্ছি।” গঙ্গা ভাঙন সমস্যার গভীরতা তুলে ধরে তিনি এর আগে জানান, “কাল তিন রাজ্যের গঙ্গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ মিশনের বৈঠক রয়েছে। জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল মহাশয় সভাপতিত্ব করবেন। ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গকে ডাকা হয়েছে। আমি সেই বৈঠকে যাব। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।” তিনি আরও বলেন, “গতকালই(রবিবার) মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের দল মালদায় পরিদর্শন করেছেন। যে ভাবে ভুলহুয়ার ও গঙ্গা কাছে চলে এসেছে, তা আপনারা দেখেছেন।” গঙ্গা-পদ্মা জলচুক্তি চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, 2018 সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহণ কর্তৃপক্ষ, এনটিপিসি এবং ফারাক্কা ব্যারেজের যে চুক্তি হয়েছিল, তা পুরোপুরি পালন করা হয়নি। তাঁর কথায়, “মালদা থেকে নদীয়া পর্যন্ত গোটা এলাকায় যে ভাঙন চলছে, তা রুখতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। আর আমরা যে পরিকল্পনা তৈরি করেছি, তাতে 16 কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের জন্য ঝাড়খণ্ডের ছাড়পত্র মিলছে না। বিহার আমাদের ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছে। তাই কালকের বৈঠকে এর একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার।” জলশক্তি মন্ত্রকের বৈঠকের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সেরে একই দিনে কলকাতায় ফিরবেন বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, “তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়েছিলাম, উনি বিকেল তিনটের সময় দিয়েছেন। ওনার সঙ্গে দেখা করেই আমি সন্ধ্যায় ফিরে আসব। আমার রাত আটটা থেকে কলকাতাতেও অনেক কাজ রয়েছে।”

