গভীর রাতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করল বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। সোমবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের পরে গ্রেফতার করা হয়। তোলাবাজির অভিযোগে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার বিকেলে রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়কের থানায় FIR দায়ের করেন মধুসূদন চক্রবর্তী নামে এক ব্যবসায়ী। সব্যসাচীর বিরুদ্ধে তিনি খুনের হুমকি, তোলাবাজির অভিযোগ করেছেন।অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তে নামে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। গভীর রাতে রাজারহাটের ২১১ রোড লাগোয়া রাইগাছি এলাকার একটি অভিজাত আবাসন থেকে গ্রেফতার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক। বিধানসভা নির্বাচনে বারাসত কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ভোটে ভরাডুবির পরে  তোলাবাজির অভিযোগে একাধিক তৃণমূল নেতাকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছেন সুজিত বসু। সুজিত ও দক্ষিণ দমদম পুরসভার একাধিক কাউন্সিলরের যোগসাজসেই ওই পুরসভার নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীকে ফের হেফাজতে চেয়েছে ইডি৷ শুধু তাই নয়, দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাঁচু রায়ের বয়ানকেই সুজিত বসুর বিরুদ্ধে হাতিয়ার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা৷ অবৈধ নিয়োগের জন্য কাউন্সিলরদের সঙ্গে সুজিত বসুর যোগসাজশের দাবির পাশাপাশি আদালতে পাঁচু রায়ের বয়ানও পেশ করে ইডি৷ আদালতকে ইডি-র আইনজীবী জানান, পাঁচু রায়ের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। পাঁচু রায় জানিয়েছেন, তাঁর আপত্তি সত্ত্বেও নিয়োগের ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং (বেসরকারি সংস্থা) ব্যবহার করা হয়েছিল৷ আউট সোর্সিং করার জন‍্য তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান সুজিত বসু এবং কাউন্সিলরদের একটা বড় অংশ একত্রিত ভাবে কাজ করেছিলেন৷

উল্লেখ্য, আরও এক তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে এবার তল্লাশিতে নামে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, স্বরূপের কুকীর্তির তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহেই এই তল্লাশি অভিযান। তল্লাশি অভিযানে পুলিশের নজরে একটি লকার। লকারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ থাকতে পারে, এই আশঙ্কায় ডেকে আনা হয় তালা-চাবির মিস্ত্রিকে। তবে দীর্ঘ চেষ্টার পরেও খোলা যায়নি সেই লকার। মিস্ত্রি জানান, ডিজিটাল লক খোলা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। স্বরূপের বাড়িতে মিলেছে গুপ্ত ঘর।