এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় দফতরে তল্লাশি চালাল সিআইডি। তাও তিনি যখন বাড়িতে নেই! প্রাথমিকভাবে এই টিমকে আটকানোর চেষ্টা করেন তৃণমূল নেতা শুভাশিস চক্রবর্তী। তা সত্ত্বেও গায়ের জোরে পার্টি অফিসে ঢোকার চেষ্টা করেন আধিকারিকেরা। মঙ্গলবার দুপুরে তল্লাশি-অভিযান চালানো হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও। এদিন বিকেলে খবর পেয়েই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তৃণমূলের সেন্ট্রাল অফিসে ছুটে যান সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষ। প্রথমে তাঁদের ঢুকতে বাধা দিলেও পরে সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হয়। সিআইডি-কে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে কল্যাণ সাফ বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ শুভেন্দু অধিকারী! বিজেপির সরকার পুলিশ-সিআইডিকে দিয়ে শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপদস্থ করতে, তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এসব করাচ্ছে। কুণাল ঘোষ বলেন, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে দিল্লিতে। সেটা জানা সত্ত্বেও এখন কেন এসেছে সিআইডি? পুরোটাই প্রতিহিংসার রাজনীতি বলে দাবি তৃণমূলের ! বিকেল সওয়া ৪টে থেকে সওয়া ৬টা- প্রায় ২ ঘণ্টার তল্লাশি-শেষে সিআইডি বেরিয়ে যেতেই সাংবাদিকদের ‘শূন্য’ সিজার লিস্ট দেখিয়ে বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শুভাশিস চক্রবর্তী জানান, পুরো ফাঁকা সিজার লিস্ট! কিচ্ছু পাওয়া যায়নি! মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যদিও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য এই মুহূর্তে দিল্লিতে রয়েছেন অভিষেক। তাই এদিন সময় শেষের আগেই আইনজীবী মারফত ভবানী ভবনে চিঠি পাঠিয়ে আরও সময় চেয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ। কিন্তু সেই চিঠি উপেক্ষা করে এদিন বিকেলে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে হাজির হন সিআইডি-র আধিকারিকেরা। প্রতিহিংসাপরায়ণের জন্য অভিষেকের অনুপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয় সেই অফিসে। এই তল্লাশি-অভিযান নিয়ে এক্স মাধ্যমে তীব্র নিন্দা করে ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, নির্লজ্জ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা! প্রথমে ভোট লুট, এখন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর ফাইল লুট! এটাই কি গণতন্ত্র?
এদিকে, কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রীর বাড়ি সংলগ্ন পার্টি অফিসে সিআইডি-র অভিযান নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে জানান, ওঁরা শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস সার্চ করতে এসেছে। ওঁদের বক্তব্য, যেহেতু ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের অফিসে বৈঠকে রেজোলিউশন নেওয়া হয়েছে, তাই নাকি রেজোলিউশনের কপি এখানে আছে! সেটা খুঁজতেই এসেছে। আমি বললাম, যেখানে মিটিং হয়, সেখানেই কি রেজোলিউশনের কপি থাকে? গাছতলায় মিটিং হলে কি সেখানে রেজোলিউশন থাকবে? এই যদি সিআইডি-র বুদ্ধি হয়, তাহলে ভাবুন গোটা রাজ্যে কী চলছে! একদিকে বলেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রেজোলিউশন নিয়ে দেখা করতে, আর অন্যদিকে এখানে এসে নিজেরাই রেজোলিউশন খুঁজছ? শুধু তাই নয়, সঙ্গে করে আবার কয়েকজন লোকাল বিজেপির লোককেও নিয়ে এসেছে সিআইডি! নেত্রীর অনুপস্থিতিতে তাঁকে হেনস্থা করার জন্য এসেছে। অ্যাবসোলিউটলি ভিন্ডিক্টিভ পলিটিকস!