: রাজ্য সরকার বদলের পরেই পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘায় নির্মিত জগন্নাথ মন্দির নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল বর্তমান রাজ্য সরকার। দিঘায় পূর্বতন সরকারের তৈরি করা ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ ধাম কালচারাল সেন্টার’ থেকে ‘ধাম’ শব্দটি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির পাঠানো একটি বিশেষ চিঠির প্রেক্ষিতেই এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে বর্তমান সরকার। পুরীর বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র স্বয়ং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর সেই প্রস্তাব সম্বলিত চিঠি নিয়ে এসে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের মুখ্যসচিবের হাতে। সেই চিঠি গ্রহণ করার পরেই এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, দিঘায় একটি জগন্নাথ মন্দির এবং তার সংলগ্ন পরিকাঠামো গড়ে তুলেছিল রাজ্যের পূর্বতন সরকার, যার সরকারি নামকরণ করা হয়েছিল কালচারাল সেন্টার বা সংস্কৃতি কেন্দ্র হিসেবে। কিন্তু সেই সরকারি নামের সঙ্গে হিন্দু ধর্মের অন্যতম পবিত্র শব্দ ‘জগন্নাথ ধাম’ জুড়ে দেওয়ায় প্রবল আপত্তি উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। অভিযোগ ছিল, সরকারি অর্থে তৈরি একটি সাধারণ সংস্কৃতি কেন্দ্রের নামের সঙ্গে এই শব্দ ব্যবহার করে আদতে সনাতন সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে অপমান করা হয়েছে। এর ফলে ওড়িশার প্রায় সাড়ে চার কোটি জগন্নাথ ভক্তের পাশাপাশি বাংলার অগুনতি সনাতনী মানুষের ভাবাবেগেও গভীর আঘাত লেগেছিল বলে দাবি করা হয়। বিরোধী আসনে থাকার সময় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও এই নামকরণের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন এবং তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। ক্ষমতায় আসার পরেই সেই পুরনো দাবিকে মান্যতা দিয়ে তড়িৎ পদক্ষেপ করল নতুন সরকার। এদিনের বৈঠকে ভিন রাজ্যের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মূলত হিন্দিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মান্যবর মোহন চরণ মাঝি জির তরফ থেকে যে অনুরোধ এসেছে, পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্র জির হাত দিয়ে আসা সেই চিঠি আমি এবং মুখ্যসচিব গ্রহণ করছি।”

অন্যদিকে, সমালোচকদের একাংশের দাবি, দিঘার মন্দির কোনওভাবেই পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের বিকল্প নয়। রাজ্যের বহু মন্দির, তীর্থস্থান বা আশ্রমের নামের সঙ্গে ‘ধাম’ শব্দ ব্যবহৃত হয়। সেই প্রেক্ষিতে দিঘার ক্ষেত্রে আপত্তি তুলে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে তারা বাঙালির ধর্মীয় আবেগ ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের প্রশ্নের সঙ্গে জুড়ে দেখছেন। ফলে ‘ধাম’ শব্দ সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিতর্ক থামার বদলে আরও বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে গড়ে ওঠা একটি মন্দিরের নাম শেষ পর্যন্ত ঠিক করবে কে- বাংলার মানুষ, নাকি প্রতিবেশী রাজ্যের রাজনৈতিক আপত্তি?