রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই বেআইনি নির্মাণ ভাঙা কিংবা হকার উচ্ছেদ-সব ক্ষেত্রেই বুলডোজারের ব্যবহার দেখা গিয়েছে । বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও সোচ্চার হয়েছে এর বিরুদ্ধে। তবে শহরের বুকে এখনও থামেনি বুলডোজারের ব্যবহার। এবার কলকাতা কর্পোরেশন লাগোয়া কিছু রাস্তার দখল নিয়ে বসে থাকা হকারদের উচ্ছেদ অভিযান হল সেই বুলডোজার দিয়েই। ধর্মতলায় পুরনিগমের সদর কার্যালয়ের পিছনের দিকের এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান হল শনিবার ৷ উচ্ছেদ অভিযানে ছিল কলকাতা কর্পোরেশনের এসডাবলুএম বিভাগের ডাম্পার থেকে শুরু করে বুলডোজার। ছিল পুলিশ বাহিনীও। এদিনের অভিযানে অবশ্য সেভাবে বাধা পেতে হয়নি পুর প্রশাসনকে। তারা অল্প সময়ের মধ্যেই দীর্ঘ রাস্তা ফের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন। হকারদের দোকানের ভাঙা কাঠামো ডাম্পারের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, এই পিচ রাস্তার কোনও অংশে একটি হকারকেও বসতে দেওয়া হবে না। কারণ, এই সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইন পিচ রাস্তায় হকারদের বসার বা কাঠামো নির্মাণের অনুমতি দেয় না। এমনিতে বুলডোজার নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই ৷ সেই বিতর্ক উপেক্ষা করেই বেআইনি হকারদের লাগাম টানতে বর্তমান সরকারের আমলে কড়া মনোভাব প্রকাশ করে আসছে পুলিশ-প্রশাসন।
সম্প্রতি এই বেআইনি হকার উচ্ছেদকে ঘিরে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ৷ তিনি বলেন, “সড়ক বা ফুটপাত দিয়ে মানুষের চলার কথা। কিন্তু সেই ফুটপাত যদি বেআইনি ভাবে দখল করে রাখা হয়, তা হলে সেটা চলবে না । কলকাতার বড় বড় চওড়া রাস্তা জনগণের হাঁটার জন্য । ফুটপাত মানুষের যাতায়াতের জন্য । এটা অন্য কাউকে দেওয়ার অধিকার আমায় কেউ দেয়নি । আমি মানুষের ভোটে জয়ী হয়েছি এবং আমার দলের বিধায়করা আমাকে মুখ্যমন্ত্রী করেছেন । তাই মানুষের কাছে আমি দায়বদ্ধ । তাঁদের কোনও অসুবিধা আমি হতে দিতে পারি না ৷ “

