ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কড়া সমালোচনা করল ইজরায়েল ৷ সেদেশের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ঘোষণা, তাঁরা বাইরের কোনও কূটনৈতিক সমঝোতা মানতে বাধ্য নয় এবং তারা তাদের পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব বজায় রাখবে । ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর, এই কট্টর-ডানপন্থী মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আমেরিকার নেতৃত্বাধীন কোনও উদ্যোগই ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ বা সামরিক নীতি নির্ধারণ করতে পারে না ৷ তিনি ইজরায়েলের রাজনৈতিক স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়েছেন ৷ ভারতীয় সময় সোমবার ভোরে ইরানের সঙ্গে শান্তি ছুক্তি চূড়ান্ত করার কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। আগামী শুক্রবার তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ৷ তিনি ‘এক্স'(X)-এ পোস্টে লিখেছেন, “ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের ওপর কোনও বাধ্যবাধকতা চাপায় না । যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ দেশ নয় ইজরায়েল ৷ আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি ! আমাদের দায়বদ্ধতা ইজরায়েলের নাগরিক, আইডিএফ (IDF)-এর সৈন্য এবং ইহুদি জনগণের প্রতি । পাশাপাশি হাজার বছরের নির্বাসনে নির্যাতিত ও নিহত ইহুদিদের প্রতি আমাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব হল—ইজরায়েলের মাটিতে ইহুদিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ৷” তিনি আরও লেখেন,”যখনই আমরা ইজরায়েলের নিরাপত্তার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করেছি, তখনই আমাদের চড়া মূল্য (রক্তের বিনিময়ে) দিতে হয়েছে । অসল চুক্তির ক্ষেত্রে এটি সত্য ছিল, 2006 সালের লেবানন চুক্তির ক্ষেত্রেও তা সত্য ছিল এবং গাজায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিটি প্রচেষ্টার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে—যা শেষ পর্যন্ত আমাদের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছে । আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে ভালোবাসি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞ । তবুও, ইজরায়েল কোনও ‘ব্যানানা রিপাবলিক'(দুর্বল বা অস্থিতিশীল রাষ্ট্র) নয় । আমি সবসময়ই প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব কথা বলি এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও তা পুনর্ব্যক্ত করি ।” ইজরায়েলি মন্ত্রী কঠোর অবস্থান নিয়ে দাবি করেন যে, লেবানন থেকে ধেয়ে আসা প্রতিটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের জবাবে ইজরায়েল পাল্টা আঘাত হানবে । তিনি আরও বলেন, “ইতিহাস-নির্ধারক মুহূর্তে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তই নিতে হবে । আমার অবস্থান স্পষ্ট: যে চুক্তি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, আমরা তার অংশীদার নই এবং এটি আমাদের কোনওভাবেই কোনও বাধ্যবাধকতার মধ্যে ফেলে না । হিজবুল্লার শক্তি পুরোপুরি ভেঙে ফেলার চেয়ে কম কোনও বিষয়েই আমরা আপোস করতে পারি না ৷ আমাদের যোদ্ধারা যেসব এলাকা দখল করেছে এবং সন্ত্রাসবাদী অবকাঠামো থেকে মুক্ত করেছে, সেসব এলাকা থেকে আমরা সরে আসতে পারি না ৷ এমন পরিস্থিতিতে আমরা ফিরে যেতে পারি না যেখানে হাজার হাজার সন্ত্রাসবাদী উত্তরাঞ্চলীয় বসতিগুলোর সীমানায় অবস্থান নেয় এবং ইজরায়েলের ওপর কোনও হামলা বা গোলাবর্ষণ হলে আমরা এক মুহূর্তের জন্যও নীরব থাকতে পারি না ।”

তাঁর কথায়, আমাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে হবে লেবানন থেকে ইজরায়েলের দিকে ড্রোন, ইউএভি (UAV) বা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে তার জবাবে ইজরায়েল ‘দাহিয়া’ (Dahiya) এলাকায় পাল্টা আঘাত হানবে । সর্বোপরি, আমাদের সবার কাছে এটি স্পষ্ট করে দিতে হবে ইজরায়েলের জনগণ 3,000 বছরের ইতিহাসের অধিকারী এক জাতি—এমন এক চিরন্তন জাতি যারা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে ভয় পায় না ৷ বিশ্বস্রষ্টার ওপর আমাদের অগাধ বিশ্বাস রয়েছে ৷ আমরা এক শক্তিশালী ও গর্বিত জাতি যারা মাথা উঁচু করে নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি এবং শত্রুর সামনে আর কখনওই মাথা নত করার কোনও অভিপ্রায় আমাদের নেই । ইহুদিরা আঘাত সহ্য করেও নীরব থাকত—সেই দিন আর নেই ৷” দেশের অভ্যন্তরে এই তীব্র বিরোধিতার সুর মিলিয়ে, ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিশিষ্ট বিরোধী নেতা বেনি গ্যান্টজ তাঁর দেশের সামরিক সক্ষমতা বা কৌশলগত সুবিধাকে খর্ব করতে পারে এমন যে কোনও কূটনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ৷ তিনি বর্তমান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগকে একটি বড় ধরনের ভুল পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন । সোশাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তার ট্রাম্প জানান যে, ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি এখন সম্পন্ন হয়েছে ৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে সমুদ্রপথে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ৷ সেখানে ট্রাম্প লেখেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি এখন সম্পন্ন হয়েছে । সবাইকে অভিনন্দন ! আমি এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীকে কোনও মাশুল ছাড়াই উন্মুক্ত করার পূর্ণ অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি । বিশ্বের সব জাহাজ, ইঞ্জিন চালু করো । তেল সরবরাহ শুরু হোক !”- প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প ।