পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব এবং নজিরবিহীন সৌজন্যের কোলাজ। ‘বদলের বাংলা’য় নাগরিক উন্নয়নের স্বার্থে কার্যত উধাও হয়ে গেল শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক ভেদাভেদ। সোমবার কলকাতা পুরসভায় (KMC) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক সরকারি অনুষ্ঠানে সশরীরে হাজির হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একেবারে ‘ঘরের লোক’ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। কেবল হাজির হওয়াই নয়, সোমবার দুপুরে পুরসভার প্রেক্ষাগৃহে একেবারে সামনের সারিতে বসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতেও দেখা গেল তাঁকে, যা ঘিরে এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। সোমবার কলকাতা পুরসভায় ‘স্বচ্ছ অভিযান’ কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক সূচনা করতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কলকাতা পুরসভায় এটিই ছিল তাঁর প্রথম আগমন। এই কর্মসূচীতে দলমত নির্বিশেষে পুরসভার সমস্ত ওয়ার্ডের কাউন্সিলারদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করেই এদিন হাজির হন তৃণমূলের একঝাঁক শীর্ষ কাউন্সিলর।

এদিন সভাকক্ষে একেবারে প্রথম সারিতে বসা কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেঁকে ধরেন সাংবাদিকেরা। সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে স্মিত হেসে কাজরী বলেন, “কাউন্সিলার হিসেবে আমাদের যেটুকু সময় মেয়াদের বাকি আছে, সেই সময়টায় পুরসভার নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত কাজ যাতে আরও ভালোভাবে করা যায়, তার জন্যই আজ আমাদের ডাকা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের ডেকে আলোচনা করছেন, এটা দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।”

তবে এর পরেই যখন সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করেন— তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা ঘনঘন তলব করছেন, এই বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া কী? তখন অবশ্য রাজনৈতিক বিতর্ক এড়িয়ে একগাল হেসে কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই বিষয়ে দয়া করে আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করবেন না।”

কেবল কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম পুরসভা সফরের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের হেভিওয়েট কাউন্সিলর ও কলকাতার সদ্যপ্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারপার্সন তথা সাংসদ মালা রায়। তাঁদের দু’জনকেই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সারিতে আসন অলংকৃত করতে দেখা যায়। এছাড়াও তৃণমূল শিবিরের অন্যান্য হেভিওয়েট কাউন্সিলরদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেবাশিস কুমার, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীম বসু এবং জুঁই বিশ্বাস প্রমূখ।

অনুষ্ঠান শেষে সকলেরই সুর ছিল এক। দেবাশিস কুমার ও অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়েরা জানান, পুরসভায় কলকাতা শহরের নাগরিক পরিষেবার স্বার্থে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ভাবনা, পরিকল্পনা ও রূপরেখা জানতেই তাঁরা এই প্রশাসনিক বৈঠকে এসেছেন। এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ খোঁজা বৃথা। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলার নতুন জ