আচমকা মমতার ২০ বছরের পিএসও বদল
মুখ্যমন্ত্রী পদ চলে যাওয়ার পরই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলি থেকে গার্ডরেল সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে বহাল ছিল নিরাপত্তা। পুলিশ কিয়স্কে থাকত পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যার পর বদলে গেল ছবিটা। আপাতত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে নেই কোনও পুলিশি নিরাপত্তা। কিয়স্কও পুরোপুরি ফাঁকা। দু’জন বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে বিগত প্রায় ২০ বছর ধরে যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার বা PSO হিসেবে কাজ করতেন, তাঁদের বুধবার সন্ধ্যে ৭টা নাগাদ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পিএসও-র দায়িত্ব দিয়ে ৩-৪ জনকে পাঠানো হলেও তাঁদের নিতে চাননি মমতা। ফিরিয় দেন তিনি। ফলে বুধবার রাতে কিয়স্ক পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়। রাতে কোনও পুলিশ থাকছে না তাঁর বাড়িতে।
এদিন সন্ধ্যায় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখা যায় ডেরেক ও ব্রায়েনকে। পরে তিনি বেরিয়ে এসে জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় যখন সাংসদ ছিলেন, সেই সময় থেকে নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিলেন কয়েকজন পিএসও। তাঁদের এদিন সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পুলিশের তরফে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এরপর যাঁদের পাঠানো হয় তাঁদের চেনেন না মমতা। ডেরেক বলেন, “রাত সাড়ে ৯টায় ৩-৪ অচেনা অফিসারকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল।” আপাতত মমতার বাড়িতে কোনও রকমের পুলিশি নিরাপত্তা রইল না বলে জানিয়েছেন ডেরেক। তিনি বলেন, “আমরা দু’জন নিরাপত্তারক্ষী রেখেছি।” এরপর মেইন গেটে তালা দিয়ে বেরতে দেখা যায় ডেরেক ও ব্রায়েনকে। সিসি ক্যামেরা ঢেকে ফেলা হয়েছে সাদা টেপ দিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারী একটি বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় যাতে কোনও গাফিলতি না হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রাপ্য সম্মান যাতে বজায় থাকে, সেদিকে নজর দেওয়ার কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

