সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ

রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে যেন কল্পতরু বিজেপি সরকার। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রের উপর গুরুত্ব আরোপ করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ৷ একদিকে যেমন লক্ষাধিক শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে, ঠিক তেমনই রাজ্যের প্রান্তিক স্তরের সমাজকর্মী থেকে শুরু করে বেকার যুবক-যুবতী এবং সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন ভাতা ঘোষণাও করলেন অর্থমন্ত্রী ৷ পাশাপাশি কোনও জনকল্য়ানমূলক প্রকল্প বন্ধ হবে না বলেও জানান অর্থমন্ত্রী ৷ সেক্ষেত্রে আগের সরকারের ‘যুবসাথী’ বা বেকার ভাতাও চালু রাখছে বর্তমান সরকার ৷ তবে এক্ষেত্রে তার নাম পরিবর্তন হয়ে করা হয়েছে ‘ভরসা’ ৷ পাশাপাশি আরোপ করা হয়েছে বেশ কিছু মাপকাঠিও ৷

বেকার যুবকদের জন্য নতুন প্রকল্প: ‘ভরসা’

রাজ্যের শিক্ষিত অথচ কর্মহীন যুবক-যুবতীদের স্বাবলম্বী করতে এবং পাশে দাঁড়াতে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প আনার কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। আগামী অক্টোবর মাস থেকে রাজ্যে চালু হতে চলেছে ‘ভরসা’ প্রকল্প। তবে এক্ষেত্রে যুবসাথী-র মতো সকলেই এক রকম ভাতা বা অর্থ পাবেন না ৷ বেশকিছু মাপকাঠি এখানে রেখেছে নতুন সরকার ৷

কারা পাবেন এই সুবিধা ?

২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সি যোগ্য ও শিক্ষিত বেকার যুবকরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে শর্ত আছে এখানে ৷ যে পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম এবং পরিবারের কেউ অন্য কোনও সরকারি সামাজিক সুরক্ষামূলক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁরাই এই ‘ভরসা’ প্রকল্পের আওতায় আসবেন।

ভাতার পরিমাণ

স্নাতক (গ্র্যাজুয়েট) বেকারদের প্রতি মাসে 3 হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। অন্যান্য শিক্ষিত বেকাররা প্রতি মাসে 2 হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। এর পাশাপাশি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য বড় উপহার দিয়েছে অর্থ দফতর। তাঁদের প্রস্তুতির খরচ জোগাতে এককালীন 30 হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে বাজেটে জানানো হয়েছে। আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদেরও বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে ৷ বাজেটে তাঁদের পরিশ্রমিকের সাম্মানিক বৃদ্ধির বড় ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসে 5 হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধি করা হল। পার্শ্বশিক্ষকদেরও মাসিক বেতন 5 হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, সিভিক ভলান্টিয়ার, হোমগার্ড, গ্রিন পুলিশ ও এনভিএফ কর্মীদের মাসিক বেতন 2 হাজার টাকা বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের মাসিক ভাতা বাড়ান হল এক হাজার টাকা। চাকরিপ্রার্থীর জন্য বড় বার্তা এল নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে । এক ধাক্কায় 1 লক্ষ সরকারি শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত । শুধু নিয়োগই নয়, মহিলাদের জন্য 33 শতাংশ সংরক্ষণ, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমায় অতিরিক্ত ছাড়ও ঘোষণা করা হয়েছে । প্রসঙ্গত, এই এক লক্ষ নিয়োগের মধ্যে 50 হাজার হবে শুধু শিক্ষক পদে ৷ ফলে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি স্কুলে পঠনপাঠনের ‘শ্রী’ ফিরবে বলেই মনে করা হচ্ছে ৷সোমবার বিধানসভায় 2026-27 অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে দীর্ঘদিন ধরে থাকা শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা হবে । মোট 1 লক্ষ নিয়োগের মধ্যে 20 হাজার পদ পুলিশ বিভাগে, 50 হাজার শিক্ষক, অধ্যাপক ও অশিক্ষক কর্মী, 1 হাজার ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস (ইএফআর) এবং বাকি পদগুলি বিভিন্ন সরকারি দফতরে পূরণ করা হবে ।নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নারী ক্ষমতায়নকে । বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, মোট শূন্যপদের 33 শতাংশ শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে । অর্থাৎ ঘোষিত 1 লক্ষ সরকারি চাকরির মধ্যে 33 হাজার মহিলা প্রার্থী সরাসরি সুযোগ পাবেন ।শুধু নতুন নিয়োগ নয়, বয়সসীমা নিয়েও বড় স্বস্তি দেওয়া হয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের । সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে যে 5 বছরের বয়সের ছাড় ইতিমধ্যেই চালু ছিল, তার মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়েছে । ফলে বয়সের কারণে এতদিন আবেদন করতে না-পারা বহু প্রার্থী ফের সুযোগ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে ।শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা আরও মজবুত করতে পুলিশে 20 হাজার নিয়োগের সিদ্ধান্তকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল । একই সঙ্গে যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে অগ্নিবীরদের জন্য 10 শতাংশ সংরক্ষণ রাখার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে । এছাড়া সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের জন্য মাসে ন্যূনতম 20 দিনের কাজ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে ।পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্যও একগুচ্ছ ঘোষণা করেছে সরকার । তাঁদের আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের আওতায় আনা, এক দেশ এক রেশন কার্ড প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে । বাজেট বক্তৃতার শুরুতে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “সমৃদ্ধ কিন্তু সংবেদনশীল, আধুনিক কিন্তু ঐতিহ্যভিত্তিক এবং উন্নত ভারতের অংশ হিসেবে উন্নত বাংলা গড়ে তোলাই নতুন সরকারের লক্ষ্য ।” রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, একদিকে সরকারি কর্মীদের জন্য 20 শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা, অন্যদিকে 1 লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি- দুই মিলিয়ে কর্মসংস্থান ও কর্মচারী অসন্তোষ, উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক বার্তা দিতে চেয়েছে সরকার । এখন নজর থাকবে, এই বিপুল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি কত দ্রুত প্রকাশিত হয় এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও সময়মতো সম্পন্ন করা যায় তার উপর ।