নতুন প্রধান পাচ্ছে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) ৷ দায়িত্ব নিচ্ছেন ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসের (আইপিএস) প্রবীণ আধিকারিক মহেশ দীক্ষিত ৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি তাঁর এই নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে । সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, “মন্ত্রিসভার নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর স্পেশাল ডিরেক্টর মহেশ দীক্ষিত (আইপিএস, এপি-93)-কে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিরেক্টর বা প্রধান হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে ৷ তিনি তপন কুমার ডেকার (আইপিএস, এইচপি-88) স্থলাভিষিক্ত হবেন । দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে দুই বছরের জন্য অথবা পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটবে—সেই সময়সীমার জন্য তাঁকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে । এফআর 56(ডি) এবং অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (ডেথ কাম রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস) রুলস, 1958-এর 16(1এ) বিধির আওতায় তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে এই নিয়োগ কার্যকর করা হবে ।”
১৯৯৩ ব্যাচের আইপিএস মহেশ দীক্ষিত অন্ধ্রপ্রদেশ ক্যাডারের অন্তর্গত। তিনি বর্তমানে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে (আইবি) বিশেষ পরিচালক হিসেবে কর্মরত, যা আইবির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ। শ্রীনগরে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ‘সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো’ (এসআইবি)-র প্রধান হিসেবে কাশ্মীরে প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন দীক্ষিত—যার আওতাধীন এলাকায় জম্মু-কাশ্মীরের পাশাপাশি লেহ-র গোয়েন্দা কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ৩৭০ ধারা বাতিলের পরবর্তী অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে তিনি এই দায়িত্ব সামলেছেন। সহকর্মীদের মতে ৩৭০ ধারা বাতিলের পরবর্তী সময়টি ছিল অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। গ্রাসরুট লেভেলে শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত দীক্ষিত অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেন। গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সাধন থেকে শুরু করে কৌশল নির্ধারণ ও তার বাস্তবায়ন তদারকি— প্রতিটি বিষয়ই তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাস ও নিখুঁতভাবে সামলেছিলেন। নিজের পেশায় সাফল্যের জন্যে ‘প্রেসিডেন্টস পুলিশ মেডেল’ (২০১৬), ‘পুলিশ মেডেল’ (২০০৯) এবং ‘পুলিশ অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা সেবা পদক’ (২০০৪)-এ ভূষিত হয়েছেন মহেশ। এ বার তিনিই দেশের গোয়েন্দা প্রধান।

