কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা ৷ গত বুধবার (স্থানীয় সময়) সন্ধ্যা নাগাদ পরপর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনিজুয়েলায় ৷ এই ভূমিকম্পের আঘাতে এখনও পর্যন্ত ১৪৩০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে ৷ এই ঘটনায় প্রায় ৩,৩০০ জন জখম এবং ৬৯,০০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে ৷ ভূমিকম্পের পর তিন দিন পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৩০ জনে, আহত হয়েছেন ৩,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৬৯,০০০ জন। স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অনেক এলাকায় উদ্ধারকারী দলের অভাবে মানুষজন তাদের প্রিয়জনদের খোঁজে নিজেরাই উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন ৷ ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে খুঁজে চলেছেন তাদের প্রিয়জনদের। এই ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এত বড় বিপর্যয়ের পর সে দেশের সরকারের তরফে নেওয়া পদক্ষেপকে অনেকেই অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন ৷ এর ফলে উত্তেজনা ক্রমশ চরমে পৌঁছায় ৷ কারণ, এই বিপর্যয়ের ব্যাপকতা সামাল দেওয়ার মতো প্রস্তুতি সেখানকার সেনাকর্মী, দমকলকর্মী, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর ছিল না। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি জীবিত অবস্থায় মানুষকে উদ্ধারের জন্য প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে ৷ তবে খাবার ও পানীয় জলের সংস্থান থাকলে এই সময়সীমা আরও বাড়তে পারে। ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার ১৬০০-এরও বেশি উদ্ধারকর্মী নিয়ে ১৭টি বিমান সেখানে পৌঁছয়। ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ায়, জীবিতদের উদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত উদ্বেগপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সিমোন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদেশ বিষয়ক সহায়তার দায়িত্বে থাকা মার্কিন বিদেশ দফতরের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জেরেমি লেউইন সাংবাদিকদের জানান যে, গুরুত্বপূর্ণ এই রানওয়েটি মেরামতের কাজ চলছে ৷ তবে এর মধ্যেও একটি রানওয়ে সচল রাখা হয়েছে। লেউইন জানান, উপকূলের অদূরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি জাহাজ নোঙর করে রাখা হয়েছে; আকাশপথে উদ্ধার করা যেসব জীবিত ব্যক্তির চিকিৎসার প্রয়োজন, তাদের জন্য এটি তৈরি রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজে গতি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন ৷

