আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে নিহত চিকিৎসক ছাত্রীর বাবার বিরুদ্ধেই এবার গুরুতর অভিযোগ ! উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির একটি প্রাচীন মন্দিরের প্রণামির বাক্স নিজের বাড়িতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে । এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক । যদিও অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি তিনি । স্থানীয় সূত্রের দাবি, পানিহাটির ঐতিহ্যবাহী শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দির, যার ইতিহাস প্রায় দু’শো বছরের । বংশপরম্পরায় বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারই এই মন্দিরের সেবাইত হিসেবে পুজো, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রণামির হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব পালন করে আসছে । বছরভর বহু ভক্তের সমাগম হয় এই মন্দিরে । বিশেষ করে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দণ্ড মহোৎসবে লক্ষাধিক ভক্তের উপস্থিতিতে প্রণামির বাক্সে বিপুল অর্থ জমা পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের । অভিযোগ, উৎসবের পরের দিন কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মন্দিরে যান আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসক ছাত্রীর বাবা । প্রসঙ্গত, বর্তমানে পানিহাটির বিধায়ক আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসক ছাত্রীর মা । সেই সূত্রেই বিতর্কের সূত্রপাত ৷ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি অডিয়ো ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে (যার সত্যতা বঙ্গনিউজ যাচাই করেনি )৷ সেখানে নিজেকে মন্দিরের সেবাইত বঙ্কুবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায় বলে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তিকে এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথনে একাধিক অভিযোগ করতে শোনা যায় ।

সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিয়োতে অভিযোগ করা হয়েছে, আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসক ছাত্রীর বাবা নাকি মন্দিরের ভিতর ও বাইরে থাকা সমস্ত প্রণামির বাক্স তাঁর বাড়িতে পাঠানোর নির্দেশ দেন । শুধু তাই নয়, প্রণামির বাক্স খুলে অর্থ গণনার কাজও তাঁর বাড়িতেই করার কথা বলা হয় বলে দাবি করা হয়েছে । অডিয়োতে আরও দাবি করা হয়েছে, মন্দিরটিকে একটি চ্যারিটেবল ট্রাস্টের আওতায় আনার প্রস্তাবও দেন আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসক ছাত্রীর বাবা । যদিও মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, এ ধরনের সিদ্ধান্তের আগে বিধায়কের লিখিত নির্দেশ প্রয়োজন । এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই পানিহাটি জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক । সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একটি ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের প্রণামি পরিচালনায় কোনও ব্যক্তির এ ধরনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ কতটা গ্রহণযোগ্য । রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর । অভিযোগের বিষয়ে আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসক ছাত্রীর বাবার প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় । তিনি ফোন ধরে ‘ইটিভি ভারতে’র সাংবাদিকের প্রশ্ন শুনে চুপ করেছিলেন । তারপর ফোন কেটে দিয়েছেন । পরে একাধিকবার তাঁকে ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি ৷ ফলে জানা যায়নি তাঁর প্রতিক্রিয়া ৷ একইভাবে আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসক ছাত্রীর মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথেরও কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি ৷