তান্ত্রিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল পুরুলিয়ার বোরো থানার আঁকরো গ্রামে। অভিযোগ, পারিবারিক সমস্যার সমাধানে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে গত মঙ্গলবার ওই তান্ত্রিকের কাছে গিয়েছিলেন এক মহিলা। সমস্যা সমাধানের অছিলায় তাঁর তরুণী মেয়েকে একা একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন সেই তান্ত্রিক। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে তান্ত্রিককে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম সৌমেন গোস্বামী। আদালতের নির্দেশে আপাতত ওই তান্ত্রিকের ঠিকানা পুলিশ হেফাজত। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত। জানা গিয়েছে, আঁকরোর মিশরি বাঁধ এলাকায় এই তান্ত্রিকের কালী ও শিবের মন্দির রয়েছে। রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের সমস্যা সমাধানের ব্যবসা ফেঁদে বসেছিলেন তিনি। তাতেই বিশ্বাস করে গত মঙ্গলবার বিকেলের দিকে ওই তান্ত্রিকের কাছে যান তিন জন। তরুণীর মা বৃহস্পতিবার বলেন, ‘প্রথমে আমি গত শনিবার ওই তান্ত্রিকের কাছে গিয়েছিলাম পুজো করানোর জন্য। সে দিন তিনি পুজোর আরও কিছু নৈবেদ্য নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলের দিকে আমাকে যেতে বলেন। ছেলে-মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আমি যাই। যা নৈবেদ্য নিয়ে গিয়েছিলাম, তা দিয়ে তিনি প্রথমে পুজো করেন। তার পরে ছেলেমেয়ের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলার জন্য ওদের ভিতরে নিয়ে যান। সেখানেই মেয়েকে আবার আর একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছেন তিনি।’
বুধবার বোরো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী নিজেই। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, তান্ত্রিক তাঁদের দুই ভাইবোনকে মন্দিরের ভিতরে নিয়ে গিয়ে ভাইকে একটি ঘরে বসিয়ে তাঁকে অন্য একটি ঘরে নিয়ে যান। তার পরে তাঁর শরীরে হাত দেওয়ার পাশাপাশি ত্রিশূল দেখিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালান। তরুণীর মায়ের কথায়, ‘মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে ফিরে এসে মেয়ের কিছু অস্বাভাবিক আচরণ চোখে পড়ে। কী হয়েছে জিজ্ঞাসা করায় বলে, ওর শরীরে ব্যথা হচ্ছে। তার পরেই সমস্ত কথা খুলে বলে।’ মহিলা আরও বলেন, ‘ওই তান্ত্রিক মেয়েকে পারিবারিক অমঙ্গলের ভয় দেখিয়ে বলেছিলেন, ১০ দিন কারও সঙ্গে যেন কথা না বলে। আর বাইরেও বেরোতে মানা করেছিলেন।’

