চিটফান্ডের নামে কোটি কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে রাজ্যে ফের সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ৷ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ৷ কলকাতার একটি ই-কমার্স সংস্থাকে কেন্দ্র করে ওঠা প্রতারণার অভিযোগের সূত্র ধরেই এই অভিযান বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে ৷ তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিক হারে লাভ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ‘জারাডোবিট অ্যান্ড জারাডোবিট ই-শপার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে এই সংস্থা ৷ সেই প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পা দিয়ে বহু মানুষ বিপুল লগ্নি করেন ৷ কিন্তু পরবর্তীকালে প্রতিশ্রুত মুনাফা তো দূরের কথা, আসল টাকাও ফেরত পাননি বলে অভিযোগ ৷

এই মামলার সূত্রপাত গত বছরের মে মাসে ৷ কালীঘাটের এক বাসিন্দা হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ৷ অভিযোগে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থা অন্তত 22 কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে ৷ লগ্নিকারীদের 25 মাসের জন্য বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করা হয় এবং প্রতি মাসে চার শতাংশ হারে লাভ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল ৷ সেই প্রলোভন দেখিয়েই বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ৷

অভিযোগপত্রে কলকাতার ফেয়ারলি প্লেসে সংস্থার দফতরের উল্লেখ করা হয়েছে ৷ পাশাপাশি সংস্থার দু’জন ডিরেক্টরের নামও উল্লেখ করেন অভিযোগকারী ৷ সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে ইডি ৷ তদন্তে আর্থিক লেনদেন, বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি এবং সেই অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে এদিন সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক দলে ভাগ হয়ে তল্লাশি শুরু করেন ইডির আধিকারিকরা ৷ হাওড়ার ব্যাঁটরায় জনৈক সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় ৷ অভিযোগপত্রে যাঁদের ডিরেক্টর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের অন্যতম সৌরভ চট্টোপাধ্যায় বলেই তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে ৷ এছাড়া পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর এবং নদিয়ার রানাঘাটেও একাধিক জায়গায় তল্লাশি চলছে ৷ ইডি সূত্রের খবর, তল্লাশির সময় বিভিন্ন আর্থিক নথি, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য, ডিজিটাল ডিভাইস এবং লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে ৷ তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, সংগৃহীত অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছিল, সেই টাকার কোনও অংশ অন্যত্র সরানো হয়েছে কি না এবং এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত ৷ তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই মামলায় আর্থিক প্রতারণার পরিধি আরও বড় হতে পারে ৷ ফলে তল্লাশি অভিযান থেকে পাওয়া নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ, নতুন করে তল্লাশি কিংবা গ্রেফতারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না ৷ বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে ইডি ৷