রাজ্যের স্কুলগুলির মিড-ডে মিলের মানোন্নয়ন এবং পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করতে এক বড়সড়ো পদক্ষেপের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সরকারি স্কুলগুলির মিড-ডে মিলের দায়িত্ব নিতে চলেছে ‘ইসকন’ । মেচেদায় ইসকনের রথযাত্রা উৎসবের শুভ সূচনা করতে এসে একথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মেচেদায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “শুধু কলকাতা নয়, খুব শীঘ্রই রাজ্যের সমস্ত জেলাতেই স্কুলগুলির মিড-ডে মিলের দায়িত্ব নেবে ইসকন।” পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, “আগামী ১ অগাস্ট থেকে আমরা এটি কলকাতায় চালু করছি। কলকাতায় সাফল্যের সঙ্গে এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে নদিয়া জেলায় এটি শুরু করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে গোটা রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলিতেও এই পরিষেবা সম্প্রসারিত করা হবে। আগামীদিনে রাজ্যের সর্বত্র মিড-ডে মিলের খাবার তৈরি ও খাওয়ানোর দায়িত্ব সামলাবে ইসকন।” রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের গুণমান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেক জায়গাতেই খাবারের মান কিংবা রান্নার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। সেই সমস্ত অভাব-অভিযোগ দূর করে পড়ুয়াদের থালায় স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার তুলে দিতেই যে এই উদ্যোগ, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আমাদের পশ্চিমবঙ্গ সরকার, আমরা ইসকনের সঙ্গে শক্তপোক্তভাবে কাজ করব বলে ঠিক করেছি। শুধু সরকার ও জনপ্রতিনিধি দিয়ে সব কাজ করা যায় না। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ; এরা শুধু আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করে না, বন্যা ও খরার মতো ঘটনা ঘটলেও সেবা দান করে। স্কুল তৈরি করে। আর্থিকভাবে দুর্বল ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করে। বৃদ্ধাবাস তৈরি করে। অনেক ছেলে মেয়েরা তাদের বাবা, মাকে দেখে না। তাঁদের আশ্রয় দেয় এরা।” তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরা মিড-ডে মিল খায়। তাদের পৌষ্টিক আহার ইসকন দেবে।’

