ধর্মতলায় নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালীন সাংবাদিকদের উপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। তবে পুলিশের দাবি, এদের কেউ ছাত্র নয় ৷ শনিবার কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ নগরপাল (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল বলেন, “গ্রেফতার হওয়া ১১ জনের কেউই ছাত্র নন।” পুলিশের দাবি, তাঁরা সকলেই ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এবং বিক্ষোভ চলাকালীন ভাঙচুর ও অশান্তিতে জড়িত ছিলেন ৷ গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জোড়াসাঁকো, কড়োয়া, তিলজলা, বেনিয়াপুকুর ও গার্ডেনরিচ-সহ কলকাতার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ইরফান খুরশেদ (৩০), মহম্মদ মইনুদ্দিন (২৬), মহম্মদ আলমগীর ওরফে রাজু (৪৮), ইমরান আহমেদ ওরফে গোপী (১৯), খালিদ রেজা ওরফে রিঙ্কু (৪৭), জামির আহমেদ ওরফে মিনকু (৪২), মহসিন খান (৩০), দীপক ভৌমিক ওরফে ভিকি (৩৮), মহম্মদ আজাদ-সহ মোট ১১ জন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে দুই অভিযুক্ত পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছে তাঁদের আটক করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। সাংবাদিক ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মহম্মদ আফরোজকে এদিন অন্ডাল থেকে প্রথমে গ্রেফতার করে পুলিশ। নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের আঁচ শুক্রবার ছড়িয়ে পড়ে কলকাতাতেও ৷ সেই ঘটনায় শুক্রবার ধর্মতলায় সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা, যা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় ৷ আন্দোলনের আড়ালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর থেকেই ধর্মতলা চত্বর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশ। এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে সাংবাদিক নিগ্রহ মামলায় প্রথম গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। লালবাজার সূত্রে খবর, গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তের নাম মহম্মদ আফরোজ ৷ তাঁর বাড়ি মেটিয়াবুরুজের রাজাবাগান এলাকায় ৷ তদন্তে নেমে পুলিশ পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে ৷ বর্তমানে তাকে কলকাতায় আনা হচ্ছে ৷ আদালতে পেশ করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ৷ লালবাজারের দাবি, শুধুমাত্র সাংবাদিকদের উপর হামলাই নয়, ওইদিন এলাকায় অশান্তি ছড়ানো, পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে ৷ সেই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে ৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই মোট ৬টি এফআইআর দায়ের হয়েছে ৷ প্রতিটি মামলার পৃথকভাবে তদন্ত চলছে ৷ বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ, সংবাদমাধ্যমের ভিডিও, মোবাইল ফোনের ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে ৷ লালবাজার সূত্রে খবর , সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ কর্তব্যরত সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতেই এই অভিযান চলছে ৷ তদন্তে আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।

