নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল সুপ্রিমকোর্ট । শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার । শুধুমাত্র আন্দোলন হচ্ছে বলেই পুলিশ লাঠিচার্জ করবে বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করবে, তা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় । সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে হওয়া ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ এর অভিযোগ সংক্রান্ত একগুচ্ছ মামলার শুনানির সময় এই পর্যবেক্ষণ দেয় । বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং ভি মোহনা ।শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সংবিধান নিশ্চিত করেছে । তা কোনও ভাবেই অস্বীকার করা যায় না । কেবল আন্দোলন হচ্ছে বলেই পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা যায় না ।” আদালতের মতে, প্রতিবাদ গণতন্ত্রেরই অঙ্গ ।
মামলার শুনানিতে আদালত আরও বলে, “শুধু আন্দোলন হচ্ছে বলেই লাঠিচার্জ করা যাবে, এমন কোনও নীতি হতে পারে না । আবার আন্দোলনের নামে হিংসাও গ্রহণযোগ্য নয় । গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উভয় পক্ষেরই আত্মসংযম ও শৃঙ্খলা জরুরি ।” প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, দেশজুড়ে বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশের জন্য একটি অভিন্ন বা ইউনিফর্ম প্রোটোকল (Uniform Protocol) থাকা প্রয়োজন । দিল্লি বা কোনও একটি রাজ্যের বিষয় নয়, গোটা দেশের ক্ষেত্রেই একই নীতি অনুসরণ করা উচিত । বেঞ্চ জানায়, তরুণ-তরুণীরা কোনও ইস্যুতে প্রতিবাদ করতে চাইলে প্রশাসনের উচিত তাদের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ করা এবং অযথা বাধা সৃষ্টি না করা । তবে সেই সুযোগের অপব্যবহার করে যদি সমাজবিরোধীরা অশান্তি ছড়ায়, তা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে । আদালতের কথায়, “প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে । তাদের জন্য যথাযথ জায়গা থাকা উচিত । কিন্তু যদি কোনও অসামাজিক ব্যক্তি পরিস্থিতির সুযোগ নেয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্যই সম্ভব ।”
নিট প্রশ্নফাঁস এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্রদের বিক্ষোভ চলছে । দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র মিছিল ঘিরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে । লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগও সামনে আসে । অন্যদিকে পুলিশের দাবি, বিক্ষোভের সময় বহু পুলিশকর্মী আক্রান্ত হয়েছিলেন ।
পরিস্থিতির জেরে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন জমা পড়ে । সেই সব আবেদনেরই একসঙ্গে শুনানি শুরু করেছে দেশের শীর্ষ আদালত । মঙ্গলবার মামলার বিস্তারিত শুনানিতে পুলিশের ভূমিকা, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ এবং ভবিষ্যতের জন্য অভিন্ন নির্দেশিকা-সব বিষয়েই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ আসতে পারে বলে মনে করছে আইন মহল ।

