সহকর্মী মহিলার পোশাক বদল করার ভিডিও রেকর্ড করা এবং সেই ছবি দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ অভিযোগ উঠল সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে । উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই গ্রেফতার অভিযুক্ত যুবক‌। ধৃতকে ৫ দিন হেফাজতে চেয়ে পুলিশি বারাসত আদালতে পাঠানো হয় ৷ আদালত অভিযুক্তকে চারদিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে ৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে অভিযুক্ত হাবড়া থানায় সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ করছে । কাজে যোগ দেওয়ার কিছুদিন পর থেকেই প্রবল আনুগত্য দেখিয়ে থানার আধিকারিকদের স্নেহভাজন হয়ে ওঠে । ২০২৪ সাল থেকে হাবড়া থানার এক ইন্সপেক্টরের অফিস সহায়ক হিসেবে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করতেন । সেই সময় থেকেই থানায় ওই সিভিক ভলান্টিয়ার প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন । সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজের দায়িত্ব বণ্টনেও তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে থাকে । তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, থানার এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকে ব্ল্যাকমেল করে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতন করেছে । গত ১৪ জুলাই ওই মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন । দায়ের করা অভিযোগে নির্যাতিতা জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে থানারই একটি ঘরে পোশাক বদল করছিলেন । গোপনে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার মোবাইলে সেই দৃশ্য ভিডিয়ো করে রাখেন । পরে ওই ছবি দেখিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন তাঁর উপর যৌন নির্যাতন করেন অভিযুক্ত । যদিও থানার অন্য একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের সঙ্গে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার মহিলার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। দুই জনেই বিবাহিত । বিষয়টি জানাজানি হতেই দুই পরিবারে অশান্তি শুরু হয় । মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার তারপর ছেলেটির বিরুদ্ধে থানায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন । এদিকে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার গা ঢাকা দেন । অবশেষে বুধবার সকালে নিজেই থানায় এসে ধরা দেন । পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত চেয়ে পুলিশ তাঁকে বারাসত আদালতে পাঠায় । অভিযুক্তকে আদালত চারদিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ৷

বারাসত পুলিশ জেলার এক পদস্থ পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘‘পোশাক বদলের ছবি দেখিয়ে এক সিভিক ভলান্টিয়ার থানারই এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে । তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে ।’’