নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভরত পড়ুুয়াদের চিহ্নিত করতে ‘ফেস রেকগনিশন’-এর মতো একাধিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে দিল্লি পুলিশ ৷ এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যসভার সাংসদ এএ রহিম ৷ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানি শুনবেন ৷

বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সাংসদ এএ রহিমের তরফে প্রবীণ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতে উল্লেখ করেন, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের চিনতে ‘ফেসিয়াল রেকগনিশন’ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক নজরদারি ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে দিল্লি পুলিশ ৷ এখানে দু’টি ইস্যু উদ্বেগজনক- প্রথমত, বিক্ষোভকারীদের ফেসিয়াল রেকগনিশন করেছে দিল্লি পুলিশ ৷ আর ডেটা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করেছে বেসরকারি কোম্পানিগুলি ৷ আইনজীবী তথা মমতা-পন্থী তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মেনকা জানান, “একটি বিষয়, একজনের মুখের ছবি নেওয়া হচ্ছে ৷ আরেকটি বিষয় একটি যান ৷ তাহলে চশমা ব্যবহারের পাশাপাশি একটি যানও ব্যবহার হয়েছে ৷ আর সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে কোনও অনুমতি ছাড়াই ৷ এই ডেটা সংগ্রহ করার মধ্যে দিয়ে ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট, 2023 লঙ্ঘন করা হয়েছে ৷” বেঞ্চ জানিয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন সংক্রান্ত আরও মামলা জমা পড়েছে ৷ এই মামলাটি ওই মামলাগুলির সঙ্গে শোনা হবে ৷ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-আন্দোলনে যখন খুশি বায়োমেট্রিক নজরদারি চালানোটা অসাংবিধানিক ৷ শীর্ষ আদালতের কাছে দিল্লি পুলিশের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে এই ঘোষণার আবেদন জানিয়েছেন এএ রহিম কেরলের সিপিআই(এম)-এর রাজ্যসভার সাংসদ ৷ এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত নয়, যতক্ষণ না পর্যন্ত সংসদ নির্দিষ্ট কোনও আইনে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির ব্যবহারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ করছে ৷ এই মামলার আরেক আইনজীবী সুভাষ চন্দ্রন কে আরের অভিযোগ, দিল্লি পুলিশের বায়োমেট্রিক নজরদারি আসলে ‘সম্পূর্ণ আইনি শূন্যতা’ ৷ দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের যে নির্দেশ দিয়েছিল সেখানে বায়োমেট্রিক নজরদারির উল্লেখ ছিল না ৷ এমনকী অপরাধীদের চিহ্নিত করার ‘ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (আইডেনটিফিকেশন) অ্যাক্ট, 2022’-তেও জনসমাবেশে এই নজরদারি ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি ৷ এই মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, দিল্লি পুলিশ বায়োমেট্রিক পদ্ধতি বিক্ষোভকারীদের স্বয়ংক্রিয় ছবি-ভিডিয়ো সংগ্রহ করেছে ৷ শুধু তাই নয়, এই তথ্যের লিঙ্ক দেশের জাতীয় অপরাধ ডেটাবেসের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যোগ করেছে ৷ আরও অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন এবং মোবাইল কম্যান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল ভেহিকলের মাধ্যমে নির্বিচারে প্রতিবাদকারী, সাংবাদিক এবং আম জনতার ছবি ও ভিডিয়ো সংগ্রহ করে তাঁদের উপর অবিরাম বায়োমেট্রিক নজরদারি চালানো হয়েছে ৷ আবেদনে আরও বলা হয়েছে, আরটিআই (RTI)-এর জবাবে দিল্লি পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ফেসিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে গোপনীয়তার উপর কী প্রভাব পড়বে, সেই সংক্রান্ত কোনও মূল্যায়ন করা হয়নি ৷ আরও দাবি করা হয়েছে যে, পুলিশ আগে জানিয়েছিল যে ফেসিয়াল রেকগনিশন টেকনোলজি (FRT) বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি শুধুমাত্র নিখোঁজ ও মৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজেই ব্যবহার করা হবে ৷ ‘কে এস পুট্টাস্বামী বনাম ভারত সরকার’ মামলার ঐতিহাসিক রায়ের উপর ভিত্তি করে আবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কিত এই নজরদারি ব্যবস্থা বৈধতা, রাষ্ট্রের যৌক্তিক উদ্দেশ্য এবং আনুপাতিকতার (proportionality) সাংবিধানিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে ৷ আবেদনে মামলাকারী আবেদন জানিয়েছে, তারা বায়োমেট্রিক নজরদারির কাজে ব্যবহৃত প্রযুক্তি, ডেটাবেস এবং ভেন্ডর বা পরিষেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়গুলি প্রকাশ করার নির্দেশ দিক আদালত ৷ পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা যাতে তাদের নিজস্ব ডেটা দেখতে পারেন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা মুছে ফেলার আবেদন জানাতে পারেন, তার জন্য একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলারও দাবি করা হয়েছে ৷