একটি বেসরকারি বাস আচমকা কন্টেনার ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এই দুর্ঘটনার জেরে এখনও পর্যন্ত ৬ যাত্রীর মৃত্যু খবর পাওয়া গিয়েছে, আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন ৷ তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এদিন বাসটি হায়দরাবাদ থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের এলুরু যাচ্ছিল ৷ সূর্যপেট জেলার অন্তর্গত কোদাদের কাছে আসতেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ৷ যাত্রীবাহী বাসটি, কন্টেনারে ধাক্কা মারে ৷ তারপর ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় ৷ দুর্ঘটনার সময় বাসে ৪২ জন যাত্রী ছিলেন। আহত যাত্রীরা জানিয়েছেন, ভোর সাড়ে থেকে পাঁচটার মধ্যে ঘটে যায় দুর্ঘটনা ৷ স্থানীয়রা-ই আওয়াজ পেয়ে তড়িঘড়ি এসে পুলিশকে খবর দেয় ৷ আহতদের চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। উদ্ধার অভিযান তদারকি করতে সূর্যপেটের এসপি নরসিংহও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। এসপি নরসিংহ বলেন, “দুর্ঘটনাটি ভোর 5টার দিকে ঘটে। ইতিমধ্যেই ৬ জনের মৃ্ত্যু হয়েছে ৷ অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় (১১-১২জন) হাসপাতালে ভর্তি। দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমি যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তখন পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ ৷ চারিদিকে যাত্রীরা পড়ে ছিলেন ৷ অনেকেই আটকে ছিলেন দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটির মধ্যে ৷ উদ্ধার করা 6 জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন ৷ দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ৷” পুলিশ আধিকারিক আরও বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ও হাইওয়ে পেট্রোল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, বাসটির অতিরিক্ত গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এনিয়ে পরবর্তী তদন্ত শুরু হয়েছে ৷ দুর্ঘটনাটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আহত যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ ৷ মৃতদের মধ্যে তিনজনের নাম জানা গিয়েছে ৷ ওয়াই চিন্নি (32), বি মেরি জোশনা (29) এবং চেন্নাকেশাভুলু নগেন্দ্রবাবু (21) ৷” তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি সূর্যপেটের পথ দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন ৷ মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্ঘটনায় 6 জনের মৃত্যুতে পরিবহণমন্ত্রী মান্দিপল্লি রামপ্রসাদ রেড্ডিও শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

