banganews.net

কানপুরে গঙ্গার পাড়ে ভেঙে পড়ল প্রশিক্ষণ বিমান ৷ ঘটনায় এক প্রশিক্ষণার্থী পাইলট ও এক প্রশিক্ষক পাইলটের মৃত্যু হয়েছে ৷ পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল জানান, ‘গর্গ অ্যাভিয়েশন’-এর পরিচালনায় ‘টেকনম’ (Tecnam) মডেলের বিমানটি সকাল সাড়ে 11টার দিকে টেকঅফ করে ৷ প্রায় 20 মিনিট পর সেটি ভেঙে পড়ে। এতে গুজরাতের প্রশিক্ষক শচীন ভাটিয়া এবং কর্ণাটকের প্রশিক্ষণার্থী পাইলট অভিষেক পূজারির মৃত্যু হয়। ইতালিতে তৈরি বিমানটি কাটরি এলাকার নাথাপুরওয়া গ্রামের কাছে ভেঙে পড়ে বলে খবর ৷ পুলিশ কমিশনার জানান, প্রশিক্ষক শচিন ভাটিয়ার প্রায় 3000 ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল। পুলিশ কমিশনার আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন ৷ তারা এলাকাটি ঘিরে ফেলেন ৷ দুর্ঘটনার কারণ কী এবং তথ্য প্রমাণ হিসেবে বিমানের ধ্বংসাবশেষ সুরক্ষিত করা হয়েছে। ঘটনা সম্পর্কে ‘ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন’ (DGCA)-কে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিসিএ বিমানটির উড়ান-উপযোগিতা (airworthiness), রক্ষণাবেক্ষণের নথিপত্র এবং অন্যান্য কারিগরি দিক খতিয়ে দেখবে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এটি ছিল দুই ইঞ্জিনের বিমান। পুলিশ সূত্রে খবর, বিমানটি ছিল চার আসনের ৷ এতে প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী—দু’জনই ছিলেন। তদন্তের অংশ হিসেবে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছে পুলিশ। খবর পাওয়ার পরই পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল, জয়েন্ট কমিশনার সংকল্প শর্মা এবং ডেপুটি কমিশনার (সেন্ট্রাল) অতুল শ্রীবাস্তব থানার পুলিশকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। দুর্ঘটনাস্থলের আশেপাশে বিমানের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ আধিকারিকরা জানান, ক্ষয়ক্ষতির ধরন দেখে মনে হচ্ছে বিমানটি হয়তো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল ৷ তবে, বিস্তারিত তদন্তের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে। বিমানটি ভেঙে পড়ার সময় তীব্র শব্দে আশেপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনে প্রথমে তাঁদের মনে হয়েছিল হয়তো কোনও বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে।

নিহত দুই পাইলটের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ৷ তাঁদের পরিবারকে ঘটনার বিষয়ে জানানো হয়েছে। কী পরিস্থিতিতে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।