ক্যামাক স্ট্রিটে বেআইনি বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে গোলমালের ঘটনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, হুমায়ুন কবীর, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ কয়েক জন তৃণমূল নেতা এবং তাঁদের অনুগামীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করল কলকাতা পুলিশ । পুলিশ সূত্রে খবর, সরকারি কাজে বাধা, বেআইনি জমায়েত এবং পুলিশ ও পুরকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে শেক্সপিয়র সরণি থানায় মামলা দায়ের হয় । অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) 191(2), 191(3), 190, 121(1), 74, 3(5) এবং 351(2) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে । পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোট তিনটি এফআইআর হয়েছে । ঘটনায় এখনও পর্যন্ত 13 জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে । কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল (গোয়েন্দা) কুণাল আগরওয়াল বলেন, “এই ঘটনায় মোট তিনটি এফআইআর হয়েছে । ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে । গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।” ঘটনার সূত্রপাত 27 অগস্ট, বৃহস্পতিবার । ক্যামাক স্ট্রিটের ৯ নম্বর বাড়িতে একটি অননুমোদিত বিলবোর্ড বিপজ্জনকভাবে ঝুলছিল বলে অভিযোগ । সেটি সরানোর জন্য কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের তরফে পুলিশি সাহায্য চাওয়া হয়েছিল । সেই লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতেই পুরকর্মীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশের দল । পুলিশের অভিযোগ, বিলবোর্ড সরানোর কাজ শুরু করার সময়ই বাধা দেওয়া হয় । ঘটনাস্থলে থাকা কয়েক জন এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা সমর্থকেরা একত্রিত হয়ে পুরকর্মী ও পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ । পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে । পুলিশ এবং পুরসভার তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনাও ঘটে ৷
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েক জনের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে জমায়েত হয়ে সরকারি কর্মীদের কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে । একই সঙ্গে পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে । ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরসভার কাজের ব্যবহৃত সরঞ্জাম নিয়ে টানাটানি এবং কিছু সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে । পুরকর্মীদের একাংশের দাবি, তাঁদের ভয় দেখানো এবং হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ফলে হোর্ডিং সরানোর কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয় । ঘটনার পর কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার সুদীপ কুমার বসু লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন । সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শেক্সপিয়র সরণি থানায় মামলা রুজু হয় । তদন্তকারীদের নজরে এখন ঘটনার একাধিক দিক। বিলবোর্ড সরানোর সময় ঠিক কী ঘটেছিল, কারা প্রথমে বাধা দিয়েছিলেন, কারা পুলিশের সঙ্গে বচসা বা ধস্তাধস্তিতে জড়িয়েছিলেন এবং ঘটনায় নাম থাকা নেতাদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল- সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে । এ জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যের পাশাপাশি ওই সময়কার ভিডিয়ো ফুটেজও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে । ঘটনার সময় সেখানে কারা ছিলেন এবং অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিরা সরাসরি কোনও ভাবে গোলমালে যুক্ত ছিলেন কি না, সেটিও যাচাই করছে পুলিশ । ক্যামাক স্ট্রিটের মতো ব্যস্ত এলাকায় বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলে থাকা বিলবোর্ড সরানো নিয়েই প্রথমে পুরসভার উদ্যোগ । কিন্তু সেই কাজ ঘিরে সংঘাতের অভিযোগ এখন গড়িয়েছে পুলিশি মামলায় । এক দিকে সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ, অন্য দিকে ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর, দুই দিকই সামনে এসেছে । এখন দেখার, তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে কী উঠে আসে বা এ ব্যাপারে তৃণমূলের তরফে কী প্রতিক্রিয়া জানানো হয় ৷

