পেশায় পরিচারিকা এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ ৷ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ ৷ ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার ভবানীপুর থানা এলাকায় ৷ ধৃতের নাম অর্জুন প্রসাদ যাদব ওরফে অর্জুন যাদব । তাঁর বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় ধর্ষণ-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে । গ্রেফতারের পর অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আলিপুর পুলিশ আদালতে পেশ করা হয় ৷ তদন্তের স্বার্থে তাঁকে 1 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক । কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল (গোয়েন্দা) কুণাল আগরওয়াল বলেন, “মহিলার যাবতীয় শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে । অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করে এই বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা ৷” পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৪ অগস্ট অর্থাৎ সোমবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ৩৫ বছর বয়সি এক যুবতী ভবানীপুর থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেন । তাঁর অভিযোগ, হরিশ মুখার্জি রোডের একটি বাড়িতে অর্জুন যাদব তাঁকে ধর্ষণ করেন । অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ মহিলার বয়ান নেয় । থানায় কর্তব্যরত মহিলা পুলিশ আধিকারিকের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে তাঁর পরীক্ষা করা হয় এবং গোটা প্রক্রিয়াটি ভিডিয়োগ্রাফি করা হয় । এরপর মহিলার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভবানীপুর থানায় ওই নির্যাতিতা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা মামলা রুজু করেন । প্রাথমিকভাবে ধর্ষণ-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয় । পরে সরকারি হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয় অভিযোগকারিণীর । সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে মামলায় আরও অতিরিক্ত বেশ কয়েকটি ধারা যোগ করা হয় । পাশাপাশি তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তের সন্ধান শুরু করে । পুলিশের দাবি, গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৫ অগস্ট অর্থাৎ মঙ্গলবার ভোর 4টে 5 মিনিট নাগাদ হরিশ মুখার্জি রোডের একটি বাড়ি থেকেই অর্জুন যাদবকে গ্রেফতার করা হয় । পুলিশের তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী এবং অভিযুক্ত পরস্পরের পূর্বপরিচিত । একই বাড়িতে দু’জনের কাজের সূত্রে পরিচয় ছিল । অভিযোগকারিণী সেখানে পরিচারিকার কাজ করতেন । অন্যদিকে অভিযুক্ত ওই বাড়িতে একটি পোষ্য কুকুরের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন । ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, অভিযোগের নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল এবং অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিণীর মধ্যে পূর্ব সম্পর্কের প্রকৃতি কী ছিল-তা খতিয়ে দেখছে ভবানীপুর থানার পুলিশ ।