নয়াদিল্লির লুটিয়েন্স জোনে ঐতিহাসিক ‘দিল্লি রেস ক্লাব’-এর 53 একর জমির দখল নিল কেন্দ্রীয় সরকার। পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরই বুলডোজার চালিয়ে রেস ক্লাবের প্রাঙ্গণে থাকা অনেক পুরনো ও জরাজীর্ণ কাঠামো ভাঙার কাজ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের অত্যন্ত কাছে এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকার জমিটি খালি করার পর কেন্দ্রীয় সরকার এর রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য ‘সেন্ট্রাল পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট’ (CPWD)-এর হাতে তুলে দিয়েছে। আদালতের একটি নির্দেশের ঠিক দু’দিন পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ৷ এস্টেট অফিসারের উচ্ছেদ আদেশের উপর জেলা ও দায়রা আদালতের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ চেয়েছিল ‘দিল্লি রেস ক্লাব (1940) লিমিটেড’ ৷ বিচারক সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন ৷ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, ক্লাবকে তাদের বক্তব্য পেশ করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হলেও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে, ‘পাবলিক প্রেমিসেস অ্যাক্ট, 1950’-এর 5 নম্বর ধারায় উচ্ছেদের পথ প্রশস্ত হয়। ‘ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস’ (L&DO) এবং CPWD-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ‘যেমন আছে, যেখানে আছে’ (as is, where is) ভিত্তিতে এই আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রয়োজনীয় নথিপত্রের কাজ শেষ হওয়ার পরই বুলডোজার দিয়ে প্রাঙ্গণে ভাঙার কাজ শুরু হয়ে যায়। এই বিশাল জমিটির ইজারা 1994 সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং তারপর নবীকরণ হয়নি ৷ কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সরকারি প্যানেলের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন , ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই ক্লাবটি সরকারি জমি দখল করে রেখেছে। যদিও ক্লাব কর্তৃপক্ষের মূল আইনি বিষয়টি এখনও আদালতে বিচারাধীন এবং এবিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে 26 সেপ্টেম্বর ৷ তবুও অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা বা স্থগিতাদেশ না থাকায় সরকার জমিটির দখল নেওয়ার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে ।
ভবিষ্যতে বড় প্রকল্পের সম্ভাবনা
দিল্লির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় 53.242 একরের এই বিশাল ভূখণ্ডের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হাতে আসার পর থেকেই জল্পনা, সরকার হয়তো কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ এই জমিটি কোনও বড় ধরনের সরকারি কাজে ব্যবহার করতে পারে। বৃহস্পতিবার ক্লাবের নির্মাণ ভাঙার পর সেই আলোচনা আরও হাওয়া পেয়েছে ৷

