banganews.net

30 ঘন্টা পার হয়ে গেলেও স্বাভাবিক হল না মালদা ডিভিশনে রেল পরিষেবা ৷ নিউ ফরাক্কা স্টেশন সংলগ্ন রেললাইনে ধস নামার পর 30 ঘন্টার বেশি সময় কেটে গিয়েছে ৷ শুক্রবারও উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার 11টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে ৷ বাতিল ট্রেনের মধ্যে রয়েছে বন্দেভারত ৷ কিছু ট্রেনের গতিপথ পরিবর্তন আজিমগঞ্জ-কাটোয়া শাখা দিয়ে চালানো হচ্ছে ৷ তবে, এদিন সন্ধ্যা নাগাদ মালদা ডিভিশনে ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে মনে করছেন রেল কর্তারা ৷ কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতার ধস মেরামতের কাজ চলছে ৷ বৃহস্পতিবার রাতেও আলো জ্বেলে কাজ করা হয়েছে ৷ বাইরে থেকে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়ে এসে কাজের গতি বাড়ানোরও চেষ্টা হয়েছে ৷ ধসের জেরে রেল লাইনের পাশাপাশি ওভারহেড তারের খুঁটিও সব উপড়ে গিয়েছে ৷ রেল লাইনের পাশাপাশি সেগুলিও মেরামত করা হচ্ছে বলে খবর ৷ রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সন্ধ্যা থেকে ওই লাইনে রেল চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে ৷ ফরাক্কায় রেলের এক আধিকারিক জানান, ওই লাইনে যতক্ষণ না-রেল চলাচলের জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের সবুজ সংকেত দেবেন, ততক্ষণ ট্রেন চালানো সম্ভব নয় ৷ বৃহস্পতিবার ভোরে নিউ ফরাক্কা ও তিলডাঙা স্টেশনের মাঝে রেল লাইনে বিশাল এলাকাজুড়ে ধস নামে ৷ প্রায় 15 ফুট এলাকাজুড়ে ধসে গিয়েছে সবকিছু ৷ যার ফলে রেল পরিষেবা চূড়ান্ত ব্যহত হয়েছে ৷ প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, নিম্নচাপের ফলে টানা বৃষ্টির কারণেই এই বিপত্তি ৷ লাইনের পাশে একটি জলাশয় ভরে যাওয়ায় ধসের মাত্রা আরও বেড়েছে ৷ ধসের জন্য শুধু মাত্র লাইন বসে যায়নি, ওভারহেড লাইনের একাধিক খুঁটিও হেলে পড়েছে ৷ ওভারহেড তারও ছিঁড়ে গিয়েছে ৷ একদিকে যেমন রেল লাইন মেরামত করা হচ্ছে পাশাপাশি ওভারহেড লাইনের মেরামতির কাজও চলছে ৷ শুক্রবার আরও বেশি করে শ্রমিককে কাজে লাগানো হয়েছে বলে খবর ৷ তবে বৃহস্পতিবার থেকে দফায় দফায় বৃষ্টির জেরে মেরামতির কাজে বারবার বাধা হচ্ছে ৷ এর মাঝেও ওইদিন রাতেও কাজ করেছে রেল কর্মীরা ৷

রেল লাইনে ধসের কারণে এদিন বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে ৷ বাতিল ট্রেনের তালিকায় রয়েছে বন্দেভারত, শতাব্দী এক্সপ্রেস, তিস্তা-তোর্সা, দার্জিলিং মেইল, মালদা টাউন, নবদ্বীপ ধাম বালুরঘাট এক্সপ্রেস-সহ প্রায় 11টি ট্রেন ৷ কয়েকটি ট্রেন সাগরদিঘি, আজিমগঞ্জ, কাটোয়া রুট দিয়ে চালানো হচ্ছে ৷ এই ঘটনায় ওই রুটে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে ৷ ট্রেনের আশা ছেড়ে অনেকেই বাস ধরছেন ৷ বাসে যাত্রী বাড়ায় সেখানেও টিকিটের হাহাকার পড়ে গিয়েছে ৷ তবে উত্তরবঙ্গে যেতে এখন বাসরুটই যাত্রীদের অন্যতম ভরসা ৷