CJP বা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র দিল্লির প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ১৪ বছরের এক কিশোরীকে হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে এ বার রিপোর্ট চাইল সুপ্রিমকোর্ট। অভিযোগ, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ চলাকালীন কিশোরীর বাবাকে মারধরের পর থেকেই তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে নানাভাবে হেনস্থা ও ভয় দেখানো হচ্ছে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত হিন্দুত্ববাদী ইনফ্লুয়েন্সার স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ (Swatantra Bhardwaj) বর্তমানে জেলে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করে। আদালত স্পষ্ট জানায়, কোনও নাবালিকার উপরে হেনস্থার অভিযোগকে উপেক্ষা করা যায় না। পাশাপাশি, ফৌজদারি মামলা করার কারণে ওই কিশোরী বা তাঁর পরিবারকে কোনও রকম চাপের মুখে ফেলা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত। আদালত উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লি প্রশাসনের কাছে ঘটনার রিপোর্ট চেয়েছে। কিশোরীর অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া FIR-এর পরিস্থিতি কী, ওই কিশোরী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং হামলা ও ভয় দেখানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে—তা জানাতে বলা হয়েছে।
শুনানিতে কিশোরীর আইনজীবী অভিযোগ করেন, FIR দায়ের করা হলেও ২৩ জুনের হামলায় ভরদ্বাজের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, ঘটনার সময়ে চার জন পুলিশকর্মী হামলাকারীদের সঙ্গে ছিলেন— এমন ভিডিয়োও রয়েছে। এ ছাড়া কিশোরীর বাড়িতে পাথর ছোড়ার অভিযোগও আদালতে তোলা হয়। আইনজীবীর বক্তব্য, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন ভিডিয়োয় কার্যত হামলার কথা স্বীকারও করেছেন। এর পরেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, যদি কোনও নাবালিকার উপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এখনও বাইরে ঘুরে বেড়ান এবং তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন, তা হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, একজন নাবালিকাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং স্থানীয় পুলিশও ঘটনাটিকে পৃথক ও গুরুত্ব সহকারে দেখতে পারে।
বাবার উপরে হামলার অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার পরে এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পরে কিশোরী সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন, তাঁকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়েছে এবং তাঁর ছবি বিকৃত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিশোরীর পোস্টের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এর পরে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী FIR নিয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কিশোরী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

