ইন্ডিয়া শিবিরের বৈঠকের পরদিনই সাংবাদিক বৈঠক করে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কড়া আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তোপ দাগলেন ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে ৷ রাজ্যে 150টি এমন বিধানসভা আছে, যেখানে নাম বাদ পড়ার সংখ্যা জয়ের ব্যবধানের থেকে বেশি বলে অভিযোগ করলেন তিনি ৷
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কোনও আইনি প্রক্রিয়ায় পদক্ষেপ করা যাবে না ৷ 2023 সালে আইন মোতাবেক দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে এমনই রক্ষাকবচ দিয়েছে মোদি সরকার ৷ এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ইমিউনিটি বিল যখন পাশ করা হয়, তখন লোকসভা ও রাজ্যসভা থেকে 147 জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল ৷ সেই সময় এই বিল আনা হয়েছিল ৷ 147 জন সাংসদকে বাদ দিলে কি সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে বিল পাশ হতে পারে ? এটা অনেকেই জানে না ৷ এটা বিষাক্ত সাপের কামড়ের মতো ৷ রক্ষাকবচ দেওয়ার নামে নিজের হাতে আইন নিয়েছে ৷” মমতার অভিযোগ, “আমাদের রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির মতো অবস্থা হয়ে গিয়েছিল ৷” গতকালের পর এদিনও তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন, তাঁকে বাড়ি থেকে বেরতে দিচ্ছে না বিজেপি সরকার ৷ রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে ৷ 45টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করলেন ৷ প্রথম বিজেপি সরকারের আমলে সন্ত্রাস চলছে রাজ্যে এবং বহু মানুষ ঘরছাড়া ৷ এই সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, “অভিষেক, মহুয়া, কল্যাণ, কুণালের উপর হামলা চলছে ৷ স্থানীয় থানাগুলি বিজেপির মণ্ডল কার্যালয় হয়ে গিয়েছে ৷ পুলিশ হেড কোয়ার্টারগুলি বিজেপির কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে ৷” তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷
তাঁর আরও অভিযোগ, মমতার বাড়ির সামনে গুন্ডাগিরি চলছে ৷ রাজ্যে কেউ দোকানপাট খুলতে পারছে না ৷ রাত 8টার পর রাস্তায় লোক নেই ৷ হকাররা ঘরছাড়া ৷ লক্ষ লক্ষ হকার তাঁদের রুজিরোজগার হারিয়েছে ৷ বিজেপির লোকজন মন্দিরে গিয়ে প্রণামী বাক্স লুট করছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, মিডিয়া খুব শক্তিশালী ৷ কত সাংবাদিককে ছাঁটাই করা হয়েছে ৷ আনন্দবাজার অফিসের গায়ে গেরুয়া রং করা হয়েছে ৷ সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউটে হামলা হয়েছে ৷ পুলিশকে ললিপপ দিয়ে রেখেছে বিজেপি ৷ তারা নীরব দর্শক ৷ আর কেউ গেলে পুলিশ আগে বিজেপির গুন্ডাদের ডাকছে ৷ তারা এসে হামলা চালাচ্ছে ৷ এটাই চলছে সারা রাজ্যে ৷” সীমা খান্না সরসারি জ্ঞানেশ কুমারের থেকে নির্দেশ নিয়ে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তিনি সীমা খান্নাকে ‘আই ওয়াশ’ বলে উল্লেখ করেন ৷ মমতা বলেন, “প্রযুক্তিগতভাবে মানুষকে ঠকানো হয়েছে ৷ এআই দিয়ে কাজ করে একটা নতুন সফ্টওয়্যার বানিয়ে,তার মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে ৷ তাঁকে কেন নিয়োগ করা হয়েছিল ? তিনি আই ওয়াশ, আই ল্যাশ, আই গ্য়াস ৷ ভোট ফ্ল্যাশ থ্রু ভ্যানিশ কুমার ৷ তিনি (সীমা খান্না) ভ্যানিশ কুমারের ঘনিষ্ঠ ৷”
অভিষেক বলেন, “গত বছরের ডিসেম্বরে তৃণমূল কংগ্রস সাংবাদিক বৈঠক করে (এসআইআর-এ) সীমার ভূমিকার কথা বিস্তারিত বলেছিলাম ৷ ভোটার তালিকায় কার নাম থাকবে, কার নাম থাকবে না, এই সিদ্ধান্ত শুধু এবং শুধুই ইআরও নেন ৷ সীমার মাধ্যমে এমন একটা সফ্টওয়্যার তৈরি করা হয়েছিল, এবং এর সঙ্গে এআই ব্যবহার করে, 60 লক্ষ মানুষকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির আওতাভুক্ত করা হয় ৷ এর সঙ্গে 8 হাজার 100 মাইক্রো অবজার্ভার, রোল অবজার্ভারের আলাদা লগ-ইন ক্রেডেনশিয়াল, ডিস্ট্রিক্ট রোল অবজার্ভারের লগ-ইন ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় ভাবে অর্থাৎ দিল্লি থেকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল ৷ সেই অনুযায়ী দিল্লিতে বসে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছিল ৷ আমি চ্যালেঞ্জ করছি, ধরুন, কেউ বাঁকুড়া বা জলপাইগুড়ির রোল অবজার্ভার, আজ নয়তো কাল তদন্ত হলে সামনে আসবে, রোল অবজার্ভারের টাওয়ার লোকেশন বাঁকুড়ায়, কিন্তু তাঁর আইপি অ্যাড্রেস পাওয়া যাবে দিল্লি বা কলকাতায় ৷ এটা পরিষ্কার চুরি ৷ ইসিআইনেট বা ইআরওনেট সফ্টওয়্যার ডিজাইন করা হয়েছে বিজেপিকে সাহায্য করার জন্য ৷ এই সফ্টওয়্যার পুরোটাই পরিচালনা করেছেন সীমা খান্না ৷”

