সাতসকালে কলকাতায় ফের হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ৷ আর্থিক তছরুপ মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সোমবার শহরের আটটি জায়গায় ইডির আধিকারিকরা তল্লাশি চালিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে ৷ দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জ এবং শরৎ বোস রোডের কয়েকটি স্থান-সহ একাধিক ঠিকানায় এই তল্লাশি চালানো হয় । অতিরিক্ত সুদে বেশি টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে ৷ সেই মামলায় তদন্ত জোরদার করার লক্ষ্যেই ইডি এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সূত্রের খবর ।ইডি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অভিযোগ রয়েছে সংগৃহীত অর্থ রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক উদ্যোগে খাটানো হয়েছিল । ইডির এক আধিকারিক বলেন, “ওই টাকা কোন পথে পাচার হয়েছে, তা শনাক্ত করতে এবং কথিত অনিয়মের ঘটনায় ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির সম্ভাব্য ভূমিকা খতিয়ে দেখতে আমাদের আধিকারিকরা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ ও লেনদেন সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করেছেন ।”তিনি জানান, আগের বিভিন্ন অভিযানের সময় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ইডি এই তল্লাশি চালিয়েছে । এর আগে গত মাসেও ইডি আধিকারিকরা কলকাতা এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তে 17টি জায়গায় একই ধরনের তল্লাশি চালিয়েছিলেন ৷ সোমবারের এই অভিযান সেই তল্লাশি অভিযানেরই অংশ । এই আর্থিক জালিয়াতির সূত্র খুঁজে বের করতে এবং লেনদেনের মাধ্যমে কারা লাভবান হয়েছেন, তা শনাক্ত করতে এই তল্লাশি অভিযান চলেছে ৷ টাকা কোন পথে পাচার করা হয়েছিল বা ‘ফিনান্সিয়াল ট্রেইল’ খতিয়ে দেখেছেন ইডি আধিকারিকরা ।উল্লেখ্য, গত 23 সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতা শহরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি ৷ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে একযোগে ওই তল্লাশি অভিযান চালানো হয় ৷ আর্থিক তছরূপের অভিযোগের তদন্তে ওই অভিযান চলে বলে জানা গিয়েছিল ৷ তদন্তকারীদের নজরে ছিল বিদেশি মুদ্রা বিনিময় সংক্রান্ত ব্যবসা । অভিযোগ, বিদেশি মুদ্রা লেনদেনের ব্যবসার আড়ালে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম এবং বেআইনি অর্থের লেনদেন হয়ে থাকতে পারে । সেই সূত্র ধরেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আর্থিক লেনদেন, ব্যবসায়িক নথি এবং বিভিন্ন আর্থিক নথিপত্র খতিয়ে দেখেন ইডির আধিকারিকরা ।