সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে পরপর দু’দিন হামলা চালালো ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি! রবিবারের এই দ্বিতীয় দফার হানায় প্রাণ হারিয়েছেন একজন এবং আরও ১১ জন জখম হয়েছেন। সৌদি সামরিক মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিমানবন্দরের চার নম্বর প্যাসেঞ্জার হলে আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায়। এর ঠিক আগের দিনই একই বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং আঘাত পান অন্তত ৩০৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী। একইসাথে পূর্ব সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দর এবং একাধিক তেল উৎপাদন কেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়েছে বলে জানান হুথি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি। মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলি ছাড়া সৌদির সমস্ত বিমানবন্দরই তাঁদের নিশানায় রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে সমস্ত বিমানসংস্থা ও যাত্রীদের সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সরকারি সংস্থাকে সৌদি আরবের সমর্থন এবং সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলার প্রতিবাদেই এই ধারাবাহিক আক্রমণ বলে জানিয়েছে হুথি। রিয়াধের বিমানবন্দরে আছড়ে পড়া বস্তুটি কী ছিল তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে সৌদি প্রশাসন। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রিয়াধের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিতে সক্ষম হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে লড়াই শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগরীয় কোনো দেশে এটাই সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হামলা। এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার সংকল্প নিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। নিহতের তালিকায় চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও বাংলাদেশ, আমেরিকা, জর্ডন, প্যালেস্টাইন, সিরিয়া, সুদান ও মিশরের নাগরিক রয়েছেন। হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিকও পরবর্তীতে প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে রিয়াধের ভারতীয় দূতাবাস।

